বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ৮ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিবাসন, সাইবার অপরাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসহ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোকে অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে সংযুক্ত করলেও একই সঙ্গে নতুন ধরনের বিভাজন, বৈষম্য ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু নতুন আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ইস্তাম্বুলকে জ্ঞান ও সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে অভিহিত করে তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার বাংলাদেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশের সম্পদ ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের চাপ বহন করছে। মিয়ানমারে সৃষ্ট এই সংকটের সমাধান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত দায়িত্ব। তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনে এরদোয়ানের কক্সবাজার সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং এই সংহতিকে আরও টেকসই করার আহ্বান জানান।
সাইবার অপরাধ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো দেশের একক আইন দিয়ে আন্তঃসীমান্ত প্রযুক্তি কোম্পানি বা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তিনি উন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার এমন হওয়া উচিত নয় যা শুধু ক্ষমতাবানদের নাগালের মধ্যে থাকে। সবশেষে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্লান্ত, বড় ঘোষণা নয়, বরং কার্যকর সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ববণ্টনের সময় এসেছে।




























