ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে রাশিয়ার জ্বালানি: পুতিন নারায়ণগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ওয়ালটনের সাথে চুক্তি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার খবর অস্বীকার চীনের পুতিনের সঙ্গে সফল আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল পাঠাবে রাশিয়া: ট্রাম্প ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ কেন খাইবার পাখতুনখাওয়ায় থমকে? দর্শনা চেকপোস্টে ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার মঞ্চে এল হান্ট থিয়েটারের নতুন নাটক ‘তবুও প্রেম আসে’ সীতাকুণ্ডে কলাবাগানে তরুণীর হাত-পা বাঁধা লাশ, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪ জ্বালানি তেলের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় কমিটি

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ৮ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিবাসন, সাইবার অপরাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসহ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোকে অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এবং কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে সংযুক্ত করলেও একইসঙ্গে নতুন ধরনের বৈষম্য, বিভাজন ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এসব মোকাবিলায় শুধু নতুন আইন যথেষ্ট নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সংস্কৃতি ও সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে ইস্তাম্বুলের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর বড় চাপের মুখে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ একা এই বোঝা বহন করতে পারে না। মিয়ানমারে সৃষ্ট এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তুরস্কের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি এই সংহতিকে আরও টেকসই করার আহ্বান জানান।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতের মতো সমস্যার কোনো সীমান্ত নেই। তাই কোনো একক দেশের পক্ষে প্রযুক্তি কোম্পানি বা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি উন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তঃসীমান্ত বিরোধ বাড়ছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার কেবল ক্ষমতাবানদের জন্য হতে পারে না; এটি সবার জন্য সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। পরিশেষে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কেবল অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্লান্ত, এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক সংকট কোনো একক দেশের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ৮ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক জাস্টিস সামিট-ইস্তান্বুল, ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, অভিবাসন, সাইবার অপরাধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জসহ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোকে অভিন্ন দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এবং কার্যকর ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে সংযুক্ত করলেও একইসঙ্গে নতুন ধরনের বৈষম্য, বিভাজন ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এসব মোকাবিলায় শুধু নতুন আইন যথেষ্ট নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সংস্কৃতি ও সভ্যতার মিলনস্থল হিসেবে ইস্তাম্বুলের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে দেশের সম্পদ ও নিরাপত্তার ওপর বড় চাপের মুখে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ একা এই বোঝা বহন করতে পারে না। মিয়ানমারে সৃষ্ট এই সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিত দায়িত্ব নিতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তুরস্কের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি এই সংহতিকে আরও টেকসই করার আহ্বান জানান।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অ্যালগরিদমিক পক্ষপাতের মতো সমস্যার কোনো সীমান্ত নেই। তাই কোনো একক দেশের পক্ষে প্রযুক্তি কোম্পানি বা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি উন্নত দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্বের আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তঃসীমান্ত বিরোধ বাড়ছে এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সালিশি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার কেবল ক্ষমতাবানদের জন্য হতে পারে না; এটি সবার জন্য সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। পরিশেষে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কেবল অপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যে ক্লান্ত, এখন কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin