ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় কমিটি রায়গঞ্জে নারকেল গাছ পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু অসহায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যার শখ, সম্পন্ন করলেন ১১৩তম আয়োজন হাসপাতালে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে দেখতে গেলেন গোলাম পরওয়ার ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরুর আশা ত্রাণমন্ত্রীর আশুলিয়ায় ৫ ঝুটের গুদাম ও বাড়িতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে ঢাবিতে দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন রোনালদোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব: শাস্তির মুখে পড়তে পারেন পর্তুগাল কোচ জেসুস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিদায়বেলায় সতীর্থ মুসোকে মজার বার্তা দিলেন লিওনেল মেসি

বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু কেনাবেচা: সক্রিয় অসাধু চক্র ও হাসপাতালের কর্মচারী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের দেয়াল এবং ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চলছে শিশু কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য। দত্তক দেওয়ার আড়ালে একটি অসাধু চক্র সরাসরি কমিশনের বিনিময়ে পণ্যের মতো মানব শিশু বিক্রি করছে। এই চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারী, নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাচ্চা দত্তক’ লিখে অনুসন্ধান করলে শত শত পেজ সামনে আসে। এসব পেজে ‘আর্জেন্ট ছেলে বাচ্চা লাগবে’ বা ‘মেয়ে বাচ্চা চাই’ লিখে পোস্ট করা হয়। মানবজমিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব গ্রুপে পোস্টের নিচে বয়স ও চাহিদার ভিত্তিতে দরকষাকষি চলে। এমনই একটি পেজে মানবজমিনের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে ‘তিন্নি চৌধুরী’ নামের এক ব্যক্তি তিন থেকে চার বছর বয়সী এক ছেলে শিশুর ছবি পাঠিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, বাচ্চাটি তার বোনের এবং ডিভোর্সের কারণে তার বোন বাচ্চাটি রাখতে পারছে না।

‘ছেলে মেয়ে দত্তক নেয়া-দেয়া হয়’ বা ‘বাচ্চা দত্তক নেয়া এবং দেয়ার গ্রুপ’ নামের বিভিন্ন পেজে নিয়মিত নবজাতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিশুর বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এমন এক পোস্টের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে এক ব্যক্তি নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে জানান, হাসপাতালের এক মায়ের দুটি সন্তান হয়েছে যাদের লালন-পালনের সামর্থ্য নেই। তিনি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বললেও, আইন অনুযায়ী একজনের সন্তান অন্যজনকে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সারা জীবনের মতো বাচ্চা লিখে দেওয়া হবে এবং কেউ কোনোদিন খোঁজ নিতে আসবে না।

বাচ্চা কেনাবেচার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নির্দিষ্ট অফিস বা ব্রোকার হাউজ। এসব অফিস ঢাকা মেডিকেল, আজিমপুর মাতৃসদন, মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মতো বড় হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে সক্রিয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস মালিক জানান, তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন এবং বিনিময়ে কমিশন পান। তাদের কাছে কোন বয়সের বাচ্চা লাগবে সেই তথ্যও থাকে। এছাড়া গর্ভ ভাড়া দেওয়া বা বিদেশে বাচ্চা পাঠানোর মতো অবৈধ কাজও তারা করে থাকেন। তাদের তথ্যমতে, মেয়ে বাচ্চার দাম সাধারণত ২ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং ছেলে বাচ্চার দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যমে শিশু কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর ওপর নিষ্ঠুরতা বা শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের ইউনিসেফের ‘স্টপিং দ্য ট্রাফিক’ প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু কেনাবেচা: সক্রিয় অসাধু চক্র ও হাসপাতালের কর্মচারী

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের দেয়াল এবং ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে চলছে শিশু কেনাবেচার রমরমা বাণিজ্য। দত্তক দেওয়ার আড়ালে একটি অসাধু চক্র সরাসরি কমিশনের বিনিময়ে পণ্যের মতো মানব শিশু বিক্রি করছে। এই চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কর্মচারী, নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাচ্চা দত্তক’ লিখে অনুসন্ধান করলে শত শত পেজ সামনে আসে। এসব পেজে ‘আর্জেন্ট ছেলে বাচ্চা লাগবে’ বা ‘মেয়ে বাচ্চা চাই’ লিখে পোস্ট করা হয়। মানবজমিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব গ্রুপে পোস্টের নিচে বয়স ও চাহিদার ভিত্তিতে দরকষাকষি চলে। এমনই একটি পেজে মানবজমিনের প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে ‘তিন্নি চৌধুরী’ নামের এক ব্যক্তি তিন থেকে চার বছর বয়সী এক ছেলে শিশুর ছবি পাঠিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, বাচ্চাটি তার বোনের এবং ডিভোর্সের কারণে তার বোন বাচ্চাটি রাখতে পারছে না।

‘ছেলে মেয়ে দত্তক নেয়া-দেয়া হয়’ বা ‘বাচ্চা দত্তক নেয়া এবং দেয়ার গ্রুপ’ নামের বিভিন্ন পেজে নিয়মিত নবজাতক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শিশুর বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। এমন এক পোস্টের প্রেক্ষিতে যোগাযোগ করা হলে এক ব্যক্তি নিজেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে জানান, হাসপাতালের এক মায়ের দুটি সন্তান হয়েছে যাদের লালন-পালনের সামর্থ্য নেই। তিনি আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বললেও, আইন অনুযায়ী একজনের সন্তান অন্যজনকে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সারা জীবনের মতো বাচ্চা লিখে দেওয়া হবে এবং কেউ কোনোদিন খোঁজ নিতে আসবে না।

বাচ্চা কেনাবেচার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নির্দিষ্ট অফিস বা ব্রোকার হাউজ। এসব অফিস ঢাকা মেডিকেল, আজিমপুর মাতৃসদন, মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মতো বড় হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে সক্রিয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অফিস মালিক জানান, তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন এবং বিনিময়ে কমিশন পান। তাদের কাছে কোন বয়সের বাচ্চা লাগবে সেই তথ্যও থাকে। এছাড়া গর্ভ ভাড়া দেওয়া বা বিদেশে বাচ্চা পাঠানোর মতো অবৈধ কাজও তারা করে থাকেন। তাদের তথ্যমতে, মেয়ে বাচ্চার দাম সাধারণত ২ থেকে ৩ লাখ টাকা এবং ছেলে বাচ্চার দাম ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যমে শিশু কেনাবেচা বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিশুর ওপর নিষ্ঠুরতা বা শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের ইউনিসেফের ‘স্টপিং দ্য ট্রাফিক’ প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টারের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং তারা এ নিয়ে কাজ করছেন, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin