২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরুর আশা ত্রাণমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:৩০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রিয় রংপুরের সন্তান আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আবু সাঈদকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন পথিকৃৎ হিসেবে অভিহিত করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল। তার আত্মদানের পাশাপাশি সারা দেশের অনেক তরুণ, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এ পথ দিয়ে যারা চলাচল করবেন, তারা গেটটি দেখে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বড় প্রকল্প এক দিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এর জন্য জরিপ ও নকশা প্রণয়নসহ বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে অগ্রগতি আসবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকার সনদটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে এবং সেখানে বিরোধী পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মতপার্থক্যের বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে বলে তিনি জানান।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো অঞ্চলকে বৈষম্যের মধ্যে রাখতে চায় না এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি রংপুরের কৃষি, জমি ও শ্রমের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন। এ ছাড়া মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট আধুনিক বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আগামী তিন মাসের মধ্যে কয়েকটি নতুন বিষয় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীসহ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




























