মব কালচার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান হওয়া উচিত সংসদের ভেতরে আলোচনা এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ তৈরির সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে ফেলে।
মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রকে কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মানুষের চিন্তা, আচরণ ও রাজনৈতিক চর্চার প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা জরুরি। অন্যথায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন থাকতে হবে এবং তা অবশ্যই নিয়মভিত্তিক হতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একভাবে চিন্তা করে অন্যভাবে কাজ করলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে কখনোই দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকেনি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়া সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও বিভিন্ন সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বললেও গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
বর্তমান সরকারকে নিয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই একে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে সম্মান করা। নিজের মতের মিল না থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা থাকলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।



























