ডেপুটি স্পিকারের জাল ডিও লেটার তৈরি: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড জাল করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে এক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনকে।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় শাওন মজুমদার সুমন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন যে, বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করতে একটি জাল ডিও (আধা-সরকারি) পত্র তৈরি করা হয়েছে। ওই পত্রে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের ভুয়া স্বাক্ষর ও সংসদ সচিবালয়ের সরকারি লেটারহেড ব্যবহার করা হয়। জালিয়াতি করা এই চিঠির মাধ্যমে শাওন মজুমদার সুমনকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, কথিত ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে কখনোই ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি নথিপত্র ও রেকর্ডের সঙ্গে মেলালে ব্যাপক অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। ফলে প্রাথমিকভাবে এটি সম্পূর্ণ জাল বলে প্রমাণিত হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, এ ধরনের গুরুতর জালিয়াতির মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতারণামূলকভাবে অবৈধ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অপচেষ্টা রাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার শামিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
বাদী মো. মনির হোসেনের দাবি, এই জালিয়াতির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল এবং প্রিন্টিং উৎস তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখারও দাবি জানানো হয়েছে মামলায়।


























