না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলা একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত ছড়াকার, সম্পাদক ও শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। সবশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
পরিবারের তথ্যমতে, অসুস্থতার কারণে তাকে প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাকে বারডেম হাসপাতাল, গ্রিন লাইফ হাসপাতাল এবং সবশেষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। গত শুক্রবার থেকেই তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। প্রখ্যাত এই লেখকের মৃত্যুতে তিনি দুই ছেলে, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও স্বজন রেখে গেছেন।
১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আখতার হুসেন। কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, দৈনিক জনকণ্ঠ ও দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখালেখি করেছেন তিনি। তার প্রকাশিত মৌলিক গ্রন্থ, জীবনী, অনুবাদ ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। বিশেষ করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের ‘শিশু-বিশ্বকোষ’-এ সর্বাধিক ভুক্তি লেখার কৃতিত্ব তারই। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের তালিকায় রয়েছে ‘সমুদ্র অনেক বড়’, ‘রামধনুকের সাঁকো’, ‘উল্টোপাল্টা’, ‘হালচাল’, ‘আমার দুটো ডানা’, ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’, ‘পাজি বেড়ালের শাস্তি’, ‘ফ্রিডম ফাইটার’, ‘কর্ণকুসুম ও কালোপাখার প্রজাপতি’, ‘খেলাঘরের পুতুলগুলো’ ও ‘ছোটদের চারণ কবি মুকুন্দদাস’।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষা শহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদক, মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা স্মারক, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও বজলুর রহমান স্মৃতিপদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো ছিলেন।




























