স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি মেনে নেবো না: হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের
- আপডেট সময় : ০৬:১৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি। পরিস্থিতির কারণে আমাদের ক্ষমতায় যেতে হয়েছে। কিন্তু বিএনপি সংস্কার না করে নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, আপনারা এখন দেশ চালান, কিন্তু আমরা কোনো স্বৈরতন্ত্র ও দুর্নীতি মেনে নেবো না। গতকাল বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (আইডিইবি) ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করছে, তা টিকবে না। আমরা জানি কারা এসব করছে এবং আমরা ধৈর্য ধারণ করছি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। ৫ই আগস্ট পর্যন্ত আমরা প্রতিরোধ দেখিয়েছি, প্রয়োজনে আবার সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সারা দেশে জুলাইয়ের ঘটনার কারণে যদি কারও গায়ে হাত দেয়া হয় কিংবা কটূক্তি করা হয়, তবে সেটি যেই দল বা মিডিয়াই হোক না কেন, এর পরিণতি ভালো হবে না। আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি।
নতুন বাংলাদেশের ১ দফা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই আমরা বলেছি, এই ১ দফা নতুন সংবিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ বাহাত্তরের সংবিধানে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। আমরা দেখছি বিএনপি সরকার সেই সংবিধান রক্ষার চেষ্টা করছে এবং সংশোধন কমিটি গঠন করেছে। সংস্কারের জায়গা থেকে তারা মধ্যপন্থায় এসেছিল, এখন সেই সংস্কারের জায়গাও বাদ দিয়েছে। যদি তারা সংস্কারের জায়গা বাদ দেয়, তবে আমরা নতুন সংবিধানের দাবিতে আবার আন্দোলন শুরু করবো।
শেখ হাসিনার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি যদি ডিসেম্বরে দেশে আসেন, তবে এয়ারপোর্ট থেকেই তাকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হবে। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, ১৪০০ শহীদ পরিবার, তিন লাখ আহত এবং লাখ-কোটি ছাত্র-জনতা সেদিন ঢাকার রাজপথে থাকবে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। অনেক আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্য ন্যায়বিচার ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত। গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাই দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের ভয় দেখাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, আমরা শহীদ ও আহতদের কোনো বিতর্কিত তালিকা চাই না। ঠাকুরগাঁওয়ে আহত যোদ্ধারা জানিয়েছেন, বিএনপি সিভিল সার্জন ও ডিসিকে বলে তাদের দলীয় আহত হয়নি এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকায় লিখিয়েছে। বিএনপি প্রমাণ করতে ব্যস্ত যে তাদের অংশগ্রহণ ছিল, কিন্তু এটা প্রমাণ করার কিছু নেই। আমরা স্বীকার করি আপনারা ছিলেন। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য ও এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




























