জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলে বিএনপি বিশ্বাসঘাতকতা করছে: গোলাম পরওয়ার
- আপডেট সময় : ১২:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি রক্তাক্ত জুলাইয়ের ইতিহাস ভুলতে বসেছে। সোমবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী কাজলা ব্রিজের সামনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরওয়ার বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিএনপি জুলাইকে অস্বীকার করেছে এবং এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ৩৬ জুলাই নিয়ে বিএনপির দলীয় কোনো কর্মসূচি না থাকা।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সংস্কার ইস্যুতে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, সেই সংকট বিএনপিকেই নিরসন করতে হবে। যদি সংসদে এই সংকট নিষ্পত্তি না হয়, তবে গণভোটের রায় মেনে চলা ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে এর ফয়সালা করবে। সরকারি দলের একজন মন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি কেবল নির্বাচন আদায়ের জন্য সংস্কারের কথা বলছে, যা জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি আরও বলেন, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে জনগণকে হত্যার যে বর্বর ইতিহাস, তা মানুষ ভুলতে পারে না। মানুষ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সিস্টেমের পরিবর্তন চেয়েছিল।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি মহাসচিব ও এলজিইডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাসেও সরকার কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাদের ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেওয়া উচিত। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জুলাই বিপ্লব বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি, বরং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে হয়েছে। তিনি সরকারকে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলে বিএনপি জাতিকে আবারও ধোঁকা দিচ্ছে। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি অভিযোগ করেন, বিএনপি গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এছাড়া জুলাই শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত না করা এবং গণহত্যাকারীদের বিচার না করার বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, কর্মপরিষদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, কামরুল আহসান হাসান, ড. মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, শহীদ আসলামের বোন শারমিন আক্তার, শহীদ নুর হোসেনের মা ছিনু বেগম, আহত জুলাই যোদ্ধা মো. শাহ আলম, যাত্রাবাড়ী জোন সহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান খান, ডেমরা জোন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী, কদমতলী মধ্য থানা আমির মো. মহিউদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং যাত্রাবাড়ী মধ্য থানা আমির অ্যাডভোকেট এ.কে আজাদ।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, জুলাইয়ের দিন গুলিতে একদিকে মসজিদে আজান হচ্ছে, অন্যদিকে রাস্তায় পুলিশের গুলি বর্ষণ চলছে। পুলিশের গুলির শব্দে আজানের ধ্বনি বিলীন হচ্ছিল। এত ভয়ংকর পরিস্থিতিতেও মানুষ পিছু হটেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় মেনে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে যাত্রাবাড়ীবাসী চব্বিশের জুলাইয়ের মতো আবারও একতাবদ্ধ হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাবে।



























