ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের দ্রুত ইতিবাচক সমাধান চায় উপসাগরীয় দেশগুলো আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা গাজীপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন বিপর্যস্ত ভারত সীমান্তে ২৫০টি অত্যাধুনিক চীনা হাউইটজার মোতায়েন করল পাকিস্তান দামুড়হুদায় মোবাইল কোর্টে বাধা ও ম্যাজিস্ট্রেটকে গালিগালাজের অভিযোগ নতুন বৃষ্টি বলয়ের প্রভাবে রাজধানীতে ভোর থেকেই ঝুম বৃষ্টি সংবিধানে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যুক্ত করার উদ্যোগ চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন মাঠপর্যায়েই এনআইডি সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের উজিরপুরে রাস্তার পাশে সরকারি ত্রাণের শত শত কম্বল পরিত্যক্ত

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল। তাই এই পণ্যের দামের সামান্য ওঠানামাও সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সুগন্ধি চালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নতুন করে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ পাইকারি বাজারে দামের খুব একটা পরিবর্তন না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে এলাকাভেদে একই চাল ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি কেবল বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়, বরং তদারকির অভাব এবং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার প্রতিফলন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রিকশাচালক, দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য কেজিপ্রতি ২ টাকা বাড়তি ব্যয়ও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী মোটা চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে খুচরা পর্যায়ে এই অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সুগন্ধি চালের বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক বাজার আচরণ হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের একাংশ রপ্তানি বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে দেখালেও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর পেছনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। যদি সরবরাহের তুলনায় রপ্তানি সত্যিই বেড়ে থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন। আর কারসাজি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চালের বাজারের এই অস্থিরতা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা মূল্যস্ফীতি, অপুষ্টি এবং দারিদ্র্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তখন পুষ্টিকর খাবার কমিয়ে শুধু ন্যূনতম খাদ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে প্রকট করে তোলে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত মূল্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুদদারি কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কৃষক, মিলমালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, যাতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিশ্চিত হয়। চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব। তাই কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিন

আপডেট সময় : ০৭:২২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
print news

বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চাল। তাই এই পণ্যের দামের সামান্য ওঠানামাও সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সুগন্ধি চালের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নতুন করে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ পাইকারি বাজারে দামের খুব একটা পরিবর্তন না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে এলাকাভেদে একই চাল ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এটি কেবল বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়, বরং তদারকির অভাব এবং সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীদের অনিয়ন্ত্রিত মুনাফার প্রতিফলন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রিকশাচালক, দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য কেজিপ্রতি ২ টাকা বাড়তি ব্যয়ও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী মোটা চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে খুচরা পর্যায়ে এই অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সুগন্ধি চালের বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক বাজার আচরণ হতে পারে না। ব্যবসায়ীদের একাংশ রপ্তানি বৃদ্ধিকে এর কারণ হিসেবে দেখালেও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর পেছনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে। যদি সরবরাহের তুলনায় রপ্তানি সত্যিই বেড়ে থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন। আর কারসাজি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

চালের বাজারের এই অস্থিরতা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা মূল্যস্ফীতি, অপুষ্টি এবং দারিদ্র্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তখন পুষ্টিকর খাবার কমিয়ে শুধু ন্যূনতম খাদ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যকে প্রকট করে তোলে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত মূল্য পর্যবেক্ষণ জোরদার করা। অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মজুদদারি কিংবা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কৃষক, মিলমালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি, যাতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিশ্চিত হয়। চালের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব। তাই কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy