বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের ৩৬ শতাংশই বেকার: আইএমএফ
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার, অর্থাৎ শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আইএমএফের ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ম্যাগাজিনের সেপ্টেম্বর সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো এশিয়াজুড়েই তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশ চড়া, যার মধ্যে উচ্চশিক্ষিতদের হারই সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ালেও, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির চেয়ে এআই ব্যবহারের গতি বেশি হলে তা শ্রমবাজারে তরুণ কর্মীদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্যও এই সংকটের গভীরতা প্রকাশ করে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, দেশে মোট ২৬ লাখ ২৪ হাজার বেকার রয়েছেন, যার মধ্যে ২০ লাখ ৩২ হাজারই তরুণ-তরুণী (বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর)। এই তরুণ বেকারদের প্রায় ২৯ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, চাকরিপ্রত্যাশী উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ১৭ শতাংশের বেশি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং ১৫ শতাংশের বেশি ১ থেকে ২ বছর ধরে বেকার থাকছেন। অর্থাৎ, প্রতি তিনজনে একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ এক বছরের বেশি সময় ধরে বেকারত্ব বয়ে বেড়াচ্ছেন।
দেশের অন্যতম চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্ম বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর এই পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, গত দুই দশকে দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০১০ সালে মোট শ্রমশক্তির মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ স্নাতক পাস ছিল, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। এক যুগে স্নাতক ডিগ্রিধারী আড়াই গুণ বাড়লেও চাকরির বাজার বা অর্থনৈতিক কাঠামোতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। নতুন স্নাতকদের কাজের সুযোগ দেওয়ার মতো নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। তিনি জানান, প্রতিবছর শ্রমবাজারে আসা ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাড়ে সাত লাখই স্নাতক ডিগ্রিধারী।
কেবল বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার অন্যান্য দেশেও শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব প্রকট। আইএমএফের তথ্যমতে, শ্রীলঙ্কায় শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৪৩ শতাংশ এবং ভারতে তা ৪০ শতাংশের বেশি। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের চিত্রও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে এই হার ২০ শতাংশের ওপরে।
আইএমএফ মনে করে, উচ্চশিক্ষিত তরুণেরা তাদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পেতে বেশ হিমশিম খাচ্ছেন। এর একটি বড় কারণ হলো স্নাতকদের দক্ষতা ও বাজারের চাহিদার মধ্যে স্থায়ী অসামঞ্জস্য। বর্তমানে এআই মডেলের মাধ্যমে জটিল অনেক কাজ বিনামূল্যে করে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক স্তরের অনেক কারিগরি পদের প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের গত জুনে প্রকাশিত ‘দ্য গ্লোবাল জবস চ্যালেঞ্জ’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক দশকে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যুবগোষ্ঠী। অর্ধশতাব্দী আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ কোটি।





























