বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে নেমেছে
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত বোধ করছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের নভেম্বর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৯ ডলারে উঠেছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের অক্টোবর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা গত ১৮ সেপ্টেম্বর এক নোটে উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম। তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, অদূর ভবিষ্যতে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমার প্রশ্ন হলো, কখন। আর যদি কাজটা করতেই হয়, তাহলে পুরো দেশটা উড়িয়ে দেব কি না। তাদের ঠিকমতো আচরণ করতে হবে।
স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিনের মতে, তেলের দাম মূলত রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার গতি এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে সরবরাহ কমে দাম আবার বাড়তে পারে। গত ৯ সেপ্টেম্বর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের তীব্রতায় তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৯ ডলারে পৌঁছালেও ১৬ সেপ্টেম্বর তা ১০৪ ডলারে নেমে আসে এবং সোমবার তা ১০১ ডলারে পৌঁছাল।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ১ মার্চ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭২ ডলার, যা ৩০ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে তেলের দাম কমতে কমতে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। এরপর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম প্রত্যাশার চেয়ে কম বাড়ার পেছনে চাহিদা কমে যাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক শিল্পের প্রসারের ফলে তেলনির্ভর জ্বালানির চাহিদা কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাডের হিসাবে, পেট্রোকেমিক্যাল ও পরিবহন জ্বালানিতে ব্যবহার কমে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা ৩৫ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি চীনের অবদান।





























