বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

নতুন ফুটবল মৌসুম শুরু হওয়ার মাত্র এক মাস পেরিয়ে গেছে। এত অল্প সময়ে পুরো মৌসুম নিয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা কঠিন হলেও, মাঠের পারফরম্যান্স কিন্তু ভবিষ্যতের এক দারুণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই আভাস যদি সত্যি হয়, তবে বলতেই হচ্ছে যে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে স্রেফ গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলা আটটি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে বার্সা, যেখানে তারা গোল করেছে মোট ৩৬টি। এর মধ্যে কেবল লা লিগাতেই কাতালানরা প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ৩১ বার।
বার্সেলোনার এই চোখধাঁধানো আধিপত্যের নেপথ্যে রয়েছেন রাফিনিয়া ও লামিনে ইয়ামাল। মৌসুমের শুরু থেকেই এই দুজন মাঠে ঝড় তুলেছেন। আর এই আক্রমণের জোয়ারে যখন ফেরমিন লোপেজও শামিল হলেন, তখন তা প্রতিপক্ষের জন্য ত্রিমুখী বজ্রপাতে রূপ নিয়েছে। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে বার্সার এই ত্রয়ী এরই মধ্যে ২৬টি গোল করে ফেলেছেন। এর মধ্যে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া একাই করেছেন ১৪টি গোল। ডান প্রান্তে আলো ছড়ানো ইয়ামাল করেছেন ৮টি গোল এবং মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে আসা ফেরমিন করেছেন ৪টি গোল। শুধু গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও এই তিনজন দারুণ সফল; যৌথভাবে তারা করিয়েছেন ১১টি গোল।
তাদের এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স বারবার ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় রাজত্ব করা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারের গড়া ঐতিহাসিক ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর স্মৃতি। বার্সেলোনা কি তবে ‘আরওয়াইএল’ নামে নতুন এক ত্রয়ীর উত্থান দেখছে? এর বিপরীতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের চিত্রটা কিছুটা মলিন। কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহাম—এই তিন তারকা মিলে করতে পেরেছেন মাত্র ১২টি গোল। এমবাপ্পে ৮টি গোল করে নিজের নামের প্রতি কিছুটা সুবিচার করলেও বেলিংহাম করেছেন ৩টি গোল। আর রিয়ালের সবচেয়ে বড় তারকা ভিনিসিয়ুসের পা থেকে এসেছে মাত্র ১টি গোল। ফলে বার্সার ত্রয়ীর তুলনায় রিয়ালের ত্রয়ী এরই মধ্যে ১৪ গোলে পিছিয়ে পড়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য বড় ক্লাবের আক্রমণভাগও বার্সেলোনার এই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। আর্লিং হলান্ড, রায়ান শেরকি ও আন্তোয়ান সেমেনিওকে নিয়ে গড়া ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছে ১২ গোল। মাইকেল ওলিসে, হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিনও করতে পেরেছে ১২ গোল। অন্যদিকে পিএসজির উসমান দেম্বেলে, ফেরান তোরেস ও ভিতিনিয়া মিলে করতে পেরেছেন সর্বসাকল্যে ১০ গোল।
বার্সেলোনার এই রূপকথার মতো উত্থানের কেন্দ্রে রয়েছেন রাফিনিয়া। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেসের বিদায়ের পর ফলস নাইন পজিশনে তাঁকে খেলিয়ে বাজিমাত করেছেন কোচ হান্স ফ্লিক। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে পাওয়াটাও হয়তো এই ব্রাজিলিয়ানকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছে। মৌসুমের প্রথম মাসেই তিনি নিজের ঝুলিতে পুরেছেন দুটি হ্যাটট্রিক ও তিনটি জোড়া গোল। লা লিগার ২০টি দলের মধ্যে ১৬টি দলের মোট গোলের চেয়েও রাফিনিয়ার একার গোলসংখ্যা বেশি! ফলে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর লড়াইয়েও তিনি এখন অন্যতম ফেবারিট।
রাফিনিয়ার অসাধারণ ফর্মের পাশাপাশি ইয়ামালের ৮ গোল ও ৬ অ্যাসিস্টের জাদুকরি ছন্দ এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে দেওয়া ফেরমিনের আক্রমণ যেন মাঠে এক সুরেলা সংগীতের জন্ম দিচ্ছে। সামনে দীর্ঘ পথ এবং অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতেই পারে, তবে গোল করার যে ঝড়ো গতি বার্সেলোনার আক্রমণভাগ এখন ধরে রেখেছে, তা স্পর্শ করা ইউরোপের যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন হবে।
গোল করানোর ক্ষেত্রেও তাঁদের জুড়ি নেই, তিনটি নাম মিলে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১টি গোল।.এই রাফিনিয়া যেন ধানের শিষের ওপর একটি শিশিরবিন্দু.মৌসুমের শুরু থেকে তাঁরা তিনজন মিলে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন ২০১৪-১৭ সময়টার সেই মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার ত্রয়ীকে।
পিএসজির উসমান দেম্বেলে, ফেরান তোরেস ও ভিতিনিয়া মিলে সাকল্যে ১০ গোল।.ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে দ্রুততম ১০০ গোল: রোনালদো–কেইনের সঙ্গে আর কারা.বার্সেলোনার এই উত্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপকথার মতো এক রূপান্তর—রাফিনিয়া।





























