নিম্ন আয়ের দেশের ঋণঝুঁকি মূল্যায়নে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ
- আপডেট সময় : ০৭:২০:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণের ঝুঁকি আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার লক্ষ্যে তাদের যৌথ ঋণ টেকসই মূল্যায়ন কাঠামো (ডিএসএফ) সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ২৬। সংস্থা দুটির নির্বাহী পর্ষদ এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কাঠামোটি যৌথভাবে পর্যালোচনা করা হলো। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণের ধরন পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ঋণের ঝুঁকি বিশ্লেষণের জন্য একটি আলাদা 'ডোমেস্টিক ডেট মডিউল' যুক্ত করা হবে, যা সরকারের ঋণ ও ব্যাংক খাতের পারস্পরিক নির্ভরতার ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে। এছাড়া জলবায়ু অভিযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নতুন বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে। ঋণ বহনের সক্ষমতা নির্ধারণেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে ঋণসংকটের ঝুঁকি এবং ঋণের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই না হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে আলাদা করা হবে।
নতুন কাঠামোতে অতিরিক্ত আশাবাদ রোধে বাস্তবতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে জোরদার করা হয়েছে। সরকারি ঋণের তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের দায়সহ সরকারি খাতের সব দায় ঋণ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ধাক্কা বা রাজস্ব কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ঋণের প্রভাব বুঝতে 'স্ট্রেস টেস্ট' আরও শক্তিশালী করা হবে। তবে ঋণ মূল্যায়নে ডিসকাউন্ট রেট ৫ শতাংশই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা এবং বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ততদিন পর্যন্ত বর্তমান কাঠামোই বহাল থাকবে। ২০০৫ সালে চালুর পর থেকে ডিএসএফ ঋণসংকটের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে, তবে বর্তমানে বাণিজ্যিক শর্তে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ায় ঋণের জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল।




























