ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামদানি শাড়িতে মোহনীয় পূর্ণিমা, মুগ্ধ ভক্তরা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার চাটমোহরে খাসজমি থেকে ভূমিহীন নারীকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি বন্ধে সম্পাদক পরিষদের দাবি সাইবার আইনের নামে কণ্ঠ রোধের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না: ফুয়াদ সিইসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে আটক রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মেসিকে আটকানোর পরিকল্পনা নেই বেনিনের, উপভোগ করতে চান ঐতিহাসিক ম্যাচ শরতের নীল সাজে হুমায়ূন আহমেদের বই নিয়ে তন্দ্রাবিলাসে পরীমণি আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় মামলাটি নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হাতাহাতি: সাখাওয়াত লাঞ্ছিত, আহত কয়েকজন

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মুন্সীগঞ্জে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা কাজী মো. হাবিবুর রহমানকে (৫২) অপহরণ করে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব হোসেন অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং একই সঙ্গে উদ্ধার করে চাঁদার ওই ২ লাখ টাকা। অভিযুক্ত রাজীব হোসেন অপুকে মঙ্গলবার দুপুরে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, চাঁদা আদায়ের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজীব অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। সদর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুরদানা রহমান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার বিকালে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কাজী মো. হাবিবুর রহমান দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে বিয়ে পড়ানো ও নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজীব ও স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে তার বাসায় এসে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। সেখানে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১লা অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং কাজী তা নিবন্ধন করেছেন। এরপর অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দিতে রাজি করা হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়।

কাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং মামলা করলে পরবর্তীতে ক্ষতি হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজীব হোসেন অপুদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে, যার মধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। ঘটনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানের পরামর্শে তারা থানায় যান। কিছু সময় পর অভিযুক্ত অপু থানায় এসে ২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ওসির সহযোগিতায় সেই টাকা উদ্ধার করা হয়। নাহিদ হাসান আরও বলেন, সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও আমাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ জানিয়েছেন, কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন অপুসহ দুজনকে মঙ্গলবার দুপুরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা কাজী মো. হাবিবুর রহমানকে (৫২) অপহরণ করে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব হোসেন অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার মধ্যরাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এবং একই সঙ্গে উদ্ধার করে চাঁদার ওই ২ লাখ টাকা। অভিযুক্ত রাজীব হোসেন অপুকে মঙ্গলবার দুপুরে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তসলিমউদ্দিন জানান, চাঁদা আদায়ের ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর রাজীব অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়। সদর আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দুরদানা রহমান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার বিকালে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, কাজী মো. হাবিবুর রহমান দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে বিয়ে পড়ানো ও নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজীব ও স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে তার বাসায় এসে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে তাকে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। সেখানে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১লা অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং কাজী তা নিবন্ধন করেছেন। এরপর অভিযুক্তরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলা এবং লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে দর-কষাকষির মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দিতে রাজি করা হয়। নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাব থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়।

কাজী হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং মামলা করলে পরবর্তীতে ক্ষতি হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। তিনি বলেন, রাজীব হোসেন অপুদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে, যার মধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা জড়িত। ঘটনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানের পরামর্শে তারা থানায় যান। কিছু সময় পর অভিযুক্ত অপু থানায় এসে ২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং ওসির সহযোগিতায় সেই টাকা উদ্ধার করা হয়। নাহিদ হাসান আরও বলেন, সাংবাদিক পরিবার হওয়ার পরও আমাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ জানিয়েছেন, কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অভিযুক্ত রাজীব হোসেন অপুসহ দুজনকে মঙ্গলবার দুপুরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin