ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে অর্থাভাবে থমকে গেছে মেধাবী শামীমের চিকিৎসা, বাবার আকুতি শ্যামনগরের চিংড়ি হ্যাচারিতে দেশের প্রথম ফোল্ডিং সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু পুঠিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নেই, সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে মানুষ মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে জাল না ফেলার আহ্বান মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে ‘হোন্ডাবাহিনীর’ রাজত্ব, আতঙ্কে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা দুর্গাপুরে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহারের অভিযোগ মৃত সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ বাণিজ্য: ঝিনাইদহে তোলপাড় পানির হিস্যায় একচুলও ছাড় দেবে না বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট, ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি দুই হাজার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে, যখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে ডিএনসিসি মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হকারদের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ হয়। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালীন সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এ পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় বাধার মুখে পড়েন।

ঘটনার পর বুধবার দুপুরের দিকে ডিএনসিসি পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করে। ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এই হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি দুই হাজার

আপডেট সময় : ০৮:১৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। প্রতিটি মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কাফরুল থানায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ওই মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে, যখন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে ডিএনসিসি মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অভিযানের সময় হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হকারদের সঙ্গে তাদেরও সংঘর্ষ হয়। হকাররা ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালীন সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। এ পরিস্থিতির কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ থাকে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরাও ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় বাধার মুখে পড়েন।

ঘটনার পর বুধবার দুপুরের দিকে ডিএনসিসি পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করে। ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, এই হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din