ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাশ্মীরে ৩০০ ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু নীল পোশাকে জয়া আহসানের নতুন ছবিতে মুগ্ধ নেটিজেনরা মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত সমাজ গড়তে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান সিরাজগঞ্জে খাজা মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পেল ৮৫২ শিক্ষার্থী সিরাজগঞ্জে ৮৫২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান বৈভবকে নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়, সতর্কবার্তা দিলেন কপিল দেব শাহজালালে যাত্রীর পায়ুপথ থেকে ১২৯০ গ্রাম স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার আবরারের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বদলে যাওয়া গ্রাম: বাংলাদেশের হৃদয়ে চিরসবুজ এক ছবি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কবি বন্দে আলী মিয়া ছোটবেলায় লিখেছিলেন, ‘আমাদের গ্রামখানি ছবির মতন, মাটির তলায় এর ছড়ানো রতন…’। কবি তার দিব্যদৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশের গ্রামের যে অপরূপ সৌন্দর্য দেখেছিলেন, তা আজও অমলিন। তবে সময়ের পরিক্রমায় আমাদের গ্রামগুলোর দৃশ্যপট এখন অনেক বদলে গেছে। আগে গ্রাম মানেই ছিল বিদ্যুৎহীনতা, কাঁচা রাস্তা আর শহর থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ। কিন্তু এখন গ্রামের অলিতে-গলিতে পাকা রাস্তা, বিদ্যুতের ঝলকানি আর যাতায়াত ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। নদী অঞ্চল ছাড়া এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গাড়ি নিয়ে সহজে পৌঁছানো যায়।

বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের কোনো না কোনো স্মৃতি। এক সময়ের বিক্রমপুর, যা এখন মুন্সীগঞ্জ জেলা নামে পরিচিত, তার আগলা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে। আড়িয়ল বিলের মতো বিখ্যাত স্থান ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান বাহিনীর মোকাবিলা করেছিলেন। এক সময় ঢাকা থেকে আগলা যেতে বুড়িগঙ্গা দিয়ে নৌকায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগত, কিন্তু এখন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুন্সীগঞ্জের ষোলঘর, শ্রীনগর বা কামারগাঁওয়ের মতো গ্রামগুলো ঢাকার অতি নিকটে চলে এসেছে।

গ্রামের ভেতরে এখন গড়ে উঠেছে আধুনিক রিসোর্ট, যা শহরের পাঁচ তারকা হোটেলের মতো না হলেও গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধারণ করে। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোণার একটি স্কুলের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন করেছে। এছাড়া গ্রামগুলোতে এখন আর বাঁশের সাঁকো দেখা যায় না বললেই চলে, নির্মিত হয়েছে পাকা সেতু। কসবার কাছের একটি গ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, যেখানে নদীর ওপর ব্রিজের নিচে নৌকায় বসে গান ও আড্ডায় মুখর থাকেন সব বয়সী মানুষ।

শহরের ছেলেমেয়েরা এখন গ্রামের সবুজের স্বাদ নিতে রিসোর্টগুলোতে ছুটে যাচ্ছে। বর্ষাকালে মা-বোনেরা নকশীকাঁথা বোনে, আবার কোথাও কোথাও এখনো বেতশিল্পের প্রচলন রয়েছে। যদিও অনেক খাল দখল বা ভরাট হয়ে গেছে, তবুও এখনো অনেক বিলে দেশীয় মাছ ধরার চাঁইয়ের ব্যবহার দেখা যায়। সব মিলিয়ে, আমাদের গ্রামগুলো এখন আর কেবল মাটির তলায় রতন ছড়িয়ে থাকা কোনো স্থান নয়, বরং উন্নয়নের পরতে পরতে মাটির ওপরেই ছড়িয়ে আছে হীরে-মানিক। এই সমৃদ্ধি সঠিকভাবে আহরণ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বদলে যাওয়া গ্রাম: বাংলাদেশের হৃদয়ে চিরসবুজ এক ছবি

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

কবি বন্দে আলী মিয়া ছোটবেলায় লিখেছিলেন, ‘আমাদের গ্রামখানি ছবির মতন, মাটির তলায় এর ছড়ানো রতন…’। কবি তার দিব্যদৃষ্টি দিয়ে বাংলাদেশের গ্রামের যে অপরূপ সৌন্দর্য দেখেছিলেন, তা আজও অমলিন। তবে সময়ের পরিক্রমায় আমাদের গ্রামগুলোর দৃশ্যপট এখন অনেক বদলে গেছে। আগে গ্রাম মানেই ছিল বিদ্যুৎহীনতা, কাঁচা রাস্তা আর শহর থেকে বিচ্ছিন্ন জনপদ। কিন্তু এখন গ্রামের অলিতে-গলিতে পাকা রাস্তা, বিদ্যুতের ঝলকানি আর যাতায়াত ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটেছে। নদী অঞ্চল ছাড়া এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গাড়ি নিয়ে সহজে পৌঁছানো যায়।

বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের কোনো না কোনো স্মৃতি। এক সময়ের বিক্রমপুর, যা এখন মুন্সীগঞ্জ জেলা নামে পরিচিত, তার আগলা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের অনেক স্মৃতি রয়েছে। আড়িয়ল বিলের মতো বিখ্যাত স্থান ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তান বাহিনীর মোকাবিলা করেছিলেন। এক সময় ঢাকা থেকে আগলা যেতে বুড়িগঙ্গা দিয়ে নৌকায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লাগত, কিন্তু এখন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মুন্সীগঞ্জের ষোলঘর, শ্রীনগর বা কামারগাঁওয়ের মতো গ্রামগুলো ঢাকার অতি নিকটে চলে এসেছে।

গ্রামের ভেতরে এখন গড়ে উঠেছে আধুনিক রিসোর্ট, যা শহরের পাঁচ তারকা হোটেলের মতো না হলেও গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ধারণ করে। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোণার একটি স্কুলের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসসহ সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জন করেছে। এছাড়া গ্রামগুলোতে এখন আর বাঁশের সাঁকো দেখা যায় না বললেই চলে, নির্মিত হয়েছে পাকা সেতু। কসবার কাছের একটি গ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, যেখানে নদীর ওপর ব্রিজের নিচে নৌকায় বসে গান ও আড্ডায় মুখর থাকেন সব বয়সী মানুষ।

শহরের ছেলেমেয়েরা এখন গ্রামের সবুজের স্বাদ নিতে রিসোর্টগুলোতে ছুটে যাচ্ছে। বর্ষাকালে মা-বোনেরা নকশীকাঁথা বোনে, আবার কোথাও কোথাও এখনো বেতশিল্পের প্রচলন রয়েছে। যদিও অনেক খাল দখল বা ভরাট হয়ে গেছে, তবুও এখনো অনেক বিলে দেশীয় মাছ ধরার চাঁইয়ের ব্যবহার দেখা যায়। সব মিলিয়ে, আমাদের গ্রামগুলো এখন আর কেবল মাটির তলায় রতন ছড়িয়ে থাকা কোনো স্থান নয়, বরং উন্নয়নের পরতে পরতে মাটির ওপরেই ছড়িয়ে আছে হীরে-মানিক। এই সমৃদ্ধি সঠিকভাবে আহরণ করতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin