যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

- আপডেট সময় : ০৬:২৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো অধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে তার আগের একটি প্রচেষ্টা খারিজ হয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় তিনি এই নতুন পদক্ষেপ নিলেন। গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, যার মূল উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসন এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা।
নতুন এই আদেশের মাধ্যমে অ-নাগরিক বাবা-মায়ের সংজ্ঞা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদেশি গর্ভবতী নারীদের সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মতে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান প্রসব করেন, যাতে শিশুটি মার্কিন সামাজিক সুবিধা ও ভোটাধিকারের যোগ্য হয়ে ওঠে। মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৬ হাজার শিশু এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি ঠিকানাধারী মায়েরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ হাজার ৬০০টি সন্তান প্রসব করেছেন।
আরেকটি আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউ যদি বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য হন, কোনো বিদেশি সরকারের কর্মচারী হন, কিংবা অসদুপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে সেই শিশু আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আদালতের আগের রায়কে অন্যায্য বলে অভিহিত করে নতুন উপায়ে এই নীতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী দেশটিতে জন্ম নেওয়া সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভবতী নারীদের প্রবেশ ঠেকানোর ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার সাংবিধানিক এখতিয়ার তার নেই। সুপ্রিম কোর্টে সদ্য হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ আবারও বড় ধরনের আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়ছে।


























