দাপ্তরিক দায়িত্বহীন ১১ সচিব: সরকারি কোষাগারে কোটি টাকার বোঝা
- আপডেট সময় : ১২:১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

দেশের ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোয় সচিব ও সমমর্যাদার ৯৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব ছাড়াই সময় পার করছেন। ‘নেই কাজ তো খই ভাজ’ প্রবাদের মতো অবস্থা হওয়া এসব কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। অথচ সচিব একটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
বর্তমানে সংযুক্ত থাকা এই ১১ জন সচিব হলেন মো. সাইফুল্লাহ পান্না, মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ফারজানা মমতাজ, খান মো. নূরুল আমীন এনডিসি, জাহেদা পারভীন পারভীন, মো. মফিদুর রহমান, কানিজ মওলা, মোহাম্মদ খালেদ রহীম, কাজী আনোয়ার হোসেন, মো. রায়হান কাওছার ও মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া ইয়াসমীন পারভীন নামের আরও একজন কর্মকর্তাকে পরবর্তী পদায়নের অপেক্ষায় একইভাবে রাখা হয়েছে। একই সময়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চলছে। পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগে সচিবের পদটিও খালি রয়েছে।
৯ম বেতন স্কেল অনুযায়ী, একজন সচিবের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া, ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং সন্তানদের শিক্ষা সহায়তাসহ জ্বালানির সুবিধা যোগ করলে মাসে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। দীর্ঘদিন দায়িত্বহীন অবস্থায় এই কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ায় সরকারি কোষাগারের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এ বিষয়ে বলেন, কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদায়নের জন্য বা চাকরির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে থাকলে অনুরোধের ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তিনি জানান, সরকার দক্ষতা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রশাসন সাজাতে কাজ করছে। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়ার মতে, দীর্ঘ ১৫-২০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সরকার হয়তো কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না, যা সিভিল সার্ভিসের বর্তমান পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
দায়িত্বহীন থাকা এই ১১ সচিবের সবাই মাঠপর্যায় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় দপ্তরে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দীর্ঘসময় অব্যবহৃত থাকায় প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের দক্ষ জনবল ব্যবহারের স্বার্থে দ্রুত উপযুক্ত পদায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির সমাধান প্রয়োজন।

























