ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উচ্চকক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে বিশেষ কমিটিতে ভিন্নমত ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা মাঠে অদ্ভূতকাণ্ড: প্রতিপক্ষের চুল ধরে টানায় ২ লাল কার্ড এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমায়: রাষ্ট্রপতি উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেশের চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটির পরিকল্পনা সরকারের কিশোরগঞ্জে পুলিশের কাছে পানির বাড়তি দাম নিল ম্যাক টেস্ট শপ নেগেটিভ বিষয় দর্শক বেশি দেখে: অপু বিশ্বাস

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই এখন ডেঙ্গু রোগী দেখা যাচ্ছে এবং অনেক পরিবারে একসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগীর চাপ অনেক বেশি হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটল। গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৯৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৬৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যদিও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসেই সর্বোচ্চ ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইতে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে দুইজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে (দুই সিটি করপোরেশনসহ) সর্বোচ্চ ১১৩ জন, খুলনায় ৪৫ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, বরিশালে ১৮ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, রাজশাহীতে ১৪ জন, রংপুরে ৫ জন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল অনুযায়ী অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি সাধারণের ভুল ধারণা সংশোধন করে বলেন, এডিস মশা শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তিনি আরও জানান, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে অন্তত দুই দিন সময় লাগে। তাই পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে ঘরের ভেতর মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানান, আতঙ্কিত না হয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে ডাবের খোসা, ফুলের টব বা পলিথিনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তিনি রাতে মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৌসুমি ভাইরাস জ্বরের সাথে ডেঙ্গুর উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণ জ্বর মনে করে পরীক্ষা না করিয়ে সময়ক্ষেপণ করায় রোগীদের শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে এবং কারও কারও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও সৃষ্টি হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরেই এখন ডেঙ্গু রোগী দেখা যাচ্ছে এবং অনেক পরিবারে একসঙ্গে একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার চেয়ে রোগীর চাপ অনেক বেশি হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ২৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটল। গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৯৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৬৭২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যদিও বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চলতি বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসেই সর্বোচ্চ ১৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইতে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে দুইজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে (দুই সিটি করপোরেশনসহ) সর্বোচ্চ ১১৩ জন, খুলনায় ৪৫ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, বরিশালে ১৮ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, রাজশাহীতে ১৪ জন, রংপুরে ৫ জন এবং সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, তাদের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল অনুযায়ী অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তিনি সাধারণের ভুল ধারণা সংশোধন করে বলেন, এডিস মশা শুধু দিনের বেলা নয়, রাতেও কামড়াতে পারে। তিনি আরও জানান, কোনো আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে ভাইরাসটি অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে অন্তত দুই দিন সময় লাগে। তাই পরিবারের একজন আক্রান্ত হলে ঘরের ভেতর মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ জানান, আতঙ্কিত না হয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বাসাবাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না, বিশেষ করে ডাবের খোসা, ফুলের টব বা পলিথিনে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে। তিনি রাতে মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৌসুমি ভাইরাস জ্বরের সাথে ডেঙ্গুর উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। সাধারণ জ্বর মনে করে পরীক্ষা না করিয়ে সময়ক্ষেপণ করায় রোগীদের শারীরিক জটিলতা বাড়ছে। শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে এবং কারও কারও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও সৃষ্টি হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin