ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ময়মনসিংহে এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট, বাড়ছে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কাশ্মীরে সিআইএসএফ’র গুলিতে অফিসারসহ নিহত ৪ দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে ১৬ বছরের কিশোর নিহত, গ্রেপ্তার ১ যৌতুক প্রথা নিয়ে কোনাল-রাফসান ও বুলবুলের নতুন গান উচ্চকক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে বিশেষ কমিটিতে ভিন্নমত ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা মাঠে অদ্ভূতকাণ্ড: প্রতিপক্ষের চুল ধরে টানায় ২ লাল কার্ড এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমায়: রাষ্ট্রপতি

ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর বাংলাবাজারে অবস্থিত প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) শোরুমে হামলা এবং বিক্রয়কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বই বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিএলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কয়েকজন ব্যক্তি শোরুমে প্রবেশ করে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তাঁরা দোকানের শাটার নামিয়ে দেন এবং কর্মরত দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করেন। এমনকি বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ বা সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু সেই অধিকার অন্য কারও বই প্রকাশ, বিক্রি বা পড়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেয় না। কোনো বই নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ বা ঘোষণার ভিত্তিতে নয়। রাজনৈতিক মতভেদ নির্বিশেষে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য এই নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বইটির মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে, তবে তা প্রকাশের সঠিক পথ হলো গবেষণা, যুক্তি ও আলোচনা, বইয়ের দোকানে হামলা বা কর্মীদের হয়রানি নয়। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে প্রকাশনা ও পাঠের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউপিএলের কর্মীসহ সব প্রকাশক ও বই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়, যাতে তাঁরা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করতে পারেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিসর রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকসহ সব সচেতন নাগরিককে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির; আলোকচিত্রী শহিদুল আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, রুশাদ ফরিদী; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম; আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী রাণী ইয়েন ইয়েন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও শরীফ ভূঁইয়া; লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, মানজুর আল মতিন ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী; নারী অধিকারকর্মী মাহীন সুলতান; নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস; ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর; লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ প্রমুখ। এছাড়া বিবৃতিতে ইউপিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউপিএলের শোরুমে হামলা ও কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় ৩৬ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা

আপডেট সময় : ০২:১৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বাংলাবাজারে অবস্থিত প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) শোরুমে হামলা এবং বিক্রয়কর্মীদের হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩৬ জন বিশিষ্ট নাগরিক। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও বই বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিএলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কয়েকজন ব্যক্তি শোরুমে প্রবেশ করে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তাঁরা দোকানের শাটার নামিয়ে দেন এবং কর্মরত দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করেন। এমনকি বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকেরা বলেন, কোনো বইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ বা সমালোচনা করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু সেই অধিকার অন্য কারও বই প্রকাশ, বিক্রি বা পড়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অধিকার দেয় না। কোনো বই নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপ বা ঘোষণার ভিত্তিতে নয়। রাজনৈতিক মতভেদ নির্বিশেষে লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য এই নীতি সমানভাবে প্রযোজ্য।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বইটির মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে, তবে তা প্রকাশের সঠিক পথ হলো গবেষণা, যুক্তি ও আলোচনা, বইয়ের দোকানে হামলা বা কর্মীদের হয়রানি নয়। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে প্রকাশনা ও পাঠের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে।

বিবৃতিতে বিক্রয়কর্মীদের পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউপিএলের কর্মীসহ সব প্রকাশক ও বই বিক্রেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়, যাতে তাঁরা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে কাজ করতে পারেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জ্ঞানচর্চার পরিসর রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে লেখক, পাঠক ও প্রকাশকসহ সব সচেতন নাগরিককে এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির; আলোকচিত্রী শহিদুল আলম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, রুশাদ ফরিদী; ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম; আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী রাণী ইয়েন ইয়েন, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও শরীফ ভূঁইয়া; লেখক ও গবেষক রেহনুমা আহমেদ, অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান, আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল, মানজুর আল মতিন ও প্রিয়া আহসান চৌধুরী; নারী অধিকারকর্মী মাহীন সুলতান; নারীপক্ষের আন্দোলন সম্পাদক গীতা দাস; ভয়েস ফর রিফর্মের ফাহিম মাশরুর; লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, সাংবাদিক সায়দিয়া গুলরুখ প্রমুখ। এছাড়া বিবৃতিতে ইউপিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo