ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যা: একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নরসিংদীতে যুবলীগ নেতা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া রিপন গ্রেপ্তার চূড়ান্ত হলো ২০২৬ ব্যালন ডি’অর নির্বাচনের ভোটাভুটি নারায়ণগঞ্জে বিসিকের চাকরি মেলায় ৬৩৯টি পদের সুযোগ একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট

দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা চলে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্বেগ উভয়ই আছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তেহরানকে সুবিধা দিতে পারে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা আজ বুধবার হলেও, তার এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই এবং তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালে ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সমঝোতা করেছিলেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাঁদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা অবশিষ্ট ছিলেন, যদিও তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা মার্কিন বাহিনী জানায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে, পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য পুনরায় সেনা পাঠানো হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এবং পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে।

তবে ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরাক এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি মনে করেন, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন জোট চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, কারণ এতদিন মার্কিন উপস্থিতি দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই দশক পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। গত মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা চলে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে দেশটির সরকার। যদিও সেনা প্রত্যাহার-পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ইরাকি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরাকিদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্বেগ উভয়ই আছে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের জন্য বড় সুযোগের দরজা খুলে দেবে। কারণ, ইরাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে এই গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তেহরানকে সুবিধা দিতে পারে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়সীমা আজ বুধবার হলেও, তার এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই এবং তাদের অনুপস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে ইরাকি বাহিনী সক্ষম।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২৪ সালে ইরাক থেকে সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি সমঝোতা করেছিলেন। তখন দেশটিতে আড়াই হাজার মার্কিন সেনা ছিলেন। গত বছরই তাঁদের বেশির ভাগকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শুধু আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি এলাকাগুলোয় কিছু সেনা অবশিষ্ট ছিলেন, যদিও তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা মার্কিন বাহিনী জানায়নি।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ইরাকে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে, পরে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য পুনরায় সেনা পাঠানো হয়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য নতুন একটি দিনের সূচনা হলো। দেশটি বিদেশি সব ধরনের সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এবং পুরো ভূখণ্ডের ওপর জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে।

তবে ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরাক এই মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি মনে করেন, মার্কিন বাহিনী এভাবে চলে গিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করছে, সেটি সব ইরাকির জন্য সবচেয়ে বড় শঙ্কা। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন জোট চলে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরানেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে, কারণ এতদিন মার্কিন উপস্থিতি দেশটিতে তেহরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo