ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

হার্টের সুস্থতায় সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের বিকল্প নেই

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হৃদযন্ত্র বা হার্ট মানুষের প্রাণশক্তির আধার। তবুও জীবন ও সুস্থতার ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা এক বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে হৃদরোগ বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃত্যুঝুঁকির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআরবি এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো হৃদরোগে ভুগছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে, ১০ শতাংশ করোনারি হৃদরোগে এবং ১.২ শতাংশ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশেরও বেশি ঘটছে হৃদরোগের কারণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১৭.২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। ২০০০ সাল থেকে নানান আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ১৯৪টি দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। একসময় হৃদরোগ বয়স্কদের সমস্যা মনে করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড নির্ভর খাদ্যভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বর্তমানে বছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যায় এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা পৃথিবীর মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ।

হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার গ্রহণ, লবণ কম খাওয়া, ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, মগজ, ডিমের কুসুম, কলিজা, বড় চিংড়ি, আইসক্রিম, চকলেট, খাসি ও গরুর মাংস, হাঁসের মাংস এবং দুধের সর যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। রান্নার জন্য সরিষার তেল, সয়াবিন তেল বা অলিভ অয়েল বেছে নেওয়া ভালো, তবে পাম অয়েল ও নারিকেল তেল ক্ষতিকর। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখা জরুরি। এছাড়া যারা বাইপাস বা রিং পরিয়েছেন, তাদের জন্য ধূমপান প্রাণঘাতী হতে পারে।

বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়, তবে এটি হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সাধারণ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার ৫-১০%। অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা বা ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে ব্যথা ঘন ঘন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক। হৃদরোগ নিয়ে সমাজে অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন হার্টের সমস্যা থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না, যা ভুল। ব্যায়াম বরং দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া প্রেশার বা কোলেস্টেরলকে 'সাইলেন্ট কিলার' বলা হয়, কারণ এদের বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না। ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায় এবং ১৫ বছর পর তা অধূমপায়ীর সমান হয়।

হার্ট অ্যাটাক মূলত করোনারি ধমনীতে ব্লক সৃষ্টির কারণে হয়, যা হৃদপেশিতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে। আর হঠাৎ রিং বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হার ৪০-৪৫%। তীব্র বুকে ব্যথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং অজ্ঞান হওয়া। এমন পরিস্থিতিতে অজ্ঞান হওয়ার আগে যদি ব্যক্তি নিজে বারবার জোরে কাশি দেয় এবং লম্বা শ্বাস নেয়, তবে হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা সচল রাখা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চহারে কর আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যস্ততার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের অস্বাস্থ্যকর টিফিন দিচ্ছেন, যা শৈশব থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত টিফিনের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

হার্টের সুস্থতায় সচেতনতা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের বিকল্প নেই

আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হৃদযন্ত্র বা হার্ট মানুষের প্রাণশক্তির আধার। তবুও জীবন ও সুস্থতার ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা এক বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেয়। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে হৃদরোগ বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃত্যুঝুঁকির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিডিডিআরবি এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো হৃদরোগে ভুগছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে, ১০ শতাংশ করোনারি হৃদরোগে এবং ১.২ শতাংশ বাতজ্বরজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৫২ শতাংশেরও বেশি ঘটছে হৃদরোগের কারণে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ১৭.২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ। ২০০০ সাল থেকে নানান আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বের ১৯৪টি দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। একসময় হৃদরোগ বয়স্কদের সমস্যা মনে করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুড নির্ভর খাদ্যভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের কারণে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বর্তমানে বছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যায় এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে, যা পৃথিবীর মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ।

হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার গ্রহণ, লবণ কম খাওয়া, ধূমপান বর্জন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, মগজ, ডিমের কুসুম, কলিজা, বড় চিংড়ি, আইসক্রিম, চকলেট, খাসি ও গরুর মাংস, হাঁসের মাংস এবং দুধের সর যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। রান্নার জন্য সরিষার তেল, সয়াবিন তেল বা অলিভ অয়েল বেছে নেওয়া ভালো, তবে পাম অয়েল ও নারিকেল তেল ক্ষতিকর। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা ১০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে রাখা জরুরি। এছাড়া যারা বাইপাস বা রিং পরিয়েছেন, তাদের জন্য ধূমপান প্রাণঘাতী হতে পারে।

বুকে ব্যথা মানেই হার্ট অ্যাটাক নয়, তবে এটি হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। সাধারণ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার ৫-১০%। অনেক সময় গ্যাসের সমস্যা বা ফ্রোজেন শোল্ডারের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। তবে ব্যথা ঘন ঘন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া আবশ্যক। হৃদরোগ নিয়ে সমাজে অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন হার্টের সমস্যা থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না, যা ভুল। ব্যায়াম বরং দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া প্রেশার বা কোলেস্টেরলকে 'সাইলেন্ট কিলার' বলা হয়, কারণ এদের বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না। ধূমপান ছাড়ার এক বছরের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায় এবং ১৫ বছর পর তা অধূমপায়ীর সমান হয়।

হার্ট অ্যাটাক মূলত করোনারি ধমনীতে ব্লক সৃষ্টির কারণে হয়, যা হৃদপেশিতে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করে। আর হঠাৎ রিং বন্ধ হয়ে মৃত্যুর হার ৪০-৪৫%। তীব্র বুকে ব্যথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং অজ্ঞান হওয়া। এমন পরিস্থিতিতে অজ্ঞান হওয়ার আগে যদি ব্যক্তি নিজে বারবার জোরে কাশি দেয় এবং লম্বা শ্বাস নেয়, তবে হৃদযন্ত্রের সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা সচল রাখা সম্ভব হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় অস্বাস্থ্যকর ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চহারে কর আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যস্ততার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের অস্বাস্থ্যকর টিফিন দিচ্ছেন, যা শৈশব থেকেই হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই স্কুলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত টিফিনের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh