ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, সরাতেই লাগবে ১০ বছর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন, যা গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট মোট ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২০ গুণ। এই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ কেবল পুনর্গঠন নয়, বরং এটি একটি বড় মানবিক উদ্ধার ও ফরেনসিক অভিযান। জাতিসংঘের মতে, পুরো এলাকা পরিষ্কার করতে সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি লাশ ও মানবদেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি দেহাবশেষ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য বিশেষ ফরেনসিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।

গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় কাজ করা জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে সমুদ্র খালি করার জন্য চামচ ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে, যা মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশের মতো। প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে, যা ত্রাণবাহী ট্রাক ও উদ্ধারকারী দলের চলাচল কিছুটা সহজ করেছে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রতিটি ধাপে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। এর নিচে অবিস্ফোরিত বোমা, গোলাবারুদ এবং অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় ১৬ সেপ্টেম্বরের এক ঘটনায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে ১২ শিশুসহ ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এর ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

পুনর্গঠন কাজে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। ক্রেন, বুলডোজার ও জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি গাজায় সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ কাজকে আরও ধীর করে দিয়েছে। ইউএনডিপি বর্তমানে পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও সাতটি ক্রাশার ব্যবহার করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাপ্ত নির্মাণবর্জ্য কিছুটা পিষে রাস্তা মেরামত ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের মানোন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজে সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ যেন নষ্ট না হয়। গাজার বাসিন্দাদের জন্য এই ধ্বংসস্তূপ কেবল নির্মাণবর্জ্য নয়, বরং তাদের জীবন ও স্মৃতির অবশেষ। আসন্ন বর্ষাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, সরাতেই লাগবে ১০ বছর

আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্যমতে, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন, যা গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট মোট ধ্বংসাবশেষের প্রায় ২০ গুণ। এই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ কেবল পুনর্গঠন নয়, বরং এটি একটি বড় মানবিক উদ্ধার ও ফরেনসিক অভিযান। জাতিসংঘের মতে, পুরো এলাকা পরিষ্কার করতে সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার বিভিন্ন ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচ থেকে ৬৩০টির বেশি লাশ ও মানবদেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি দেহাবশেষ শনাক্ত ও উদ্ধারের জন্য বিশেষ ফরেনসিক পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।

গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় কাজ করা জাতিসংঘের প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান বর্তমান পরিস্থিতিকে সমুদ্র খালি করার জন্য চামচ ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে, যা মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশের মতো। প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে, যা ত্রাণবাহী ট্রাক ও উদ্ধারকারী দলের চলাচল কিছুটা সহজ করেছে।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর প্রতিটি ধাপে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। এর নিচে অবিস্ফোরিত বোমা, গোলাবারুদ এবং অ্যাসবেস্টসের মতো ক্ষতিকর পদার্থ থাকতে পারে। এছাড়া আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকায় ১৬ সেপ্টেম্বরের এক ঘটনায় একটি ছয়তলা ভবন ধসে ১২ শিশুসহ ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনা এর ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

পুনর্গঠন কাজে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট রয়েছে। ক্রেন, বুলডোজার ও জ্বালানির ঘাটতির পাশাপাশি গাজায় সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ কাজকে আরও ধীর করে দিয়েছে। ইউএনডিপি বর্তমানে পাঁচটি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও সাতটি ক্রাশার ব্যবহার করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাপ্ত নির্মাণবর্জ্য কিছুটা পিষে রাস্তা মেরামত ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের মানোন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানিজে সতর্ক করে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ যেন নষ্ট না হয়। গাজার বাসিন্দাদের জন্য এই ধ্বংসস্তূপ কেবল নির্মাণবর্জ্য নয়, বরং তাদের জীবন ও স্মৃতির অবশেষ। আসন্ন বর্ষাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh