নিয়মিত অভিবাসন বাড়াতে আইওএমের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

- আপডেট সময় : ১১:৫১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস। বৈঠকে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং মানবিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, 'গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম)'-এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসন-সংক্রান্ত বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে আইওএম-এর দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আইওএমের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারী অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। এছাড়া সংকটাপন্ন দেশগুলো থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা ও পুনর্বাসনে আইওএমের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। নিরাপদ প্রত্যাবর্তন, জলবায়ুজনিত অভিবাসন, মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য আইওএমের মানবিক সহায়তা প্রশংসনীয়। তবে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
আইওএমের উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের মানবিক ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


























