জুলাই আন্দোলনে জড়িত ৩৫ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো বহাল

- আপডেট সময় : ১০:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর বলপ্রয়োগ ও গুলির ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আন্দোলনের সময় মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলায় এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ১১৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে অন্তত ৩৫ শতাংশ বা ৪১ জন এখনো বিভিন্ন দপ্তরে স্বাভাবিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলন সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের আওতার বাইরে থাকা এসব কর্মকর্তা পুলিশের ভেতরে অনৈক্য সৃষ্টি করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছেন, যা তাদের মতে উদ্বেগের কারণ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলন দমনে জড়িত কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ বা ১৭ জনকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৫৭ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত বা অবসরের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের বাইরে পলাতক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, আন্দোলনের সময় ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালনকারী ৭৭ জন এসপির মধ্যে ৩৫ জনই এখনো বিভিন্ন দপ্তরে বহাল আছেন। অর্থাৎ এসপি পর্যায়ের ৪৫ শতাংশ কর্মকর্তা এখনো স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। শাস্তির আওতায় এসেছেন ৪২ জন বা ৫৪ শতাংশ এসপি, যার মধ্যে বরখাস্ত ও সংযুক্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন। এর বাইরে গত দুই বছরে ৮ জন মেট্রোপলিটন কমিশনার ও ৮ জন রেঞ্জ ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ কমিশনার ও ৬ ডিআইজিকে অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং ৩ ডিআইজি ও ১ কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আন্দোলনের সময় বিভিন্ন রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে ৬ জন এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং বাকিদের সংযুক্ত করা হয়েছে। অনেক কর্মকর্তা এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন। অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহায়তাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১১ জন এসপির মধ্যে তিনজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরা হলেন নোয়াখালীর সাবেক এসপি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, কুমিল্লার আব্দুল মান্নান ও বাগেরহাটের আবুল হাসনাত খান। এছাড়া ঢাকা জেলার সাবেক এসপি মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ৩৫ জন এসপি এবং ৬ জন অতিরিক্ত ডিআইজি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ লবিং করে ভালো পোস্টিং পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


























