এরদোগানকে কাঠগড়ায় তুলতে আইসিসিতে মামলা প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর
- আপডেট সময় : ১১:১৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাঠগড়ায় তোলার পরিকল্পনা করছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দুই দেশের মধ্যকার চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করার অংশ হিসেবে তিনি এই আইনি পদক্ষেপকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। আই২৪নিউজ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলা পরিচালনার জন্য নেতানিয়াহু ইসরাইলের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় দল এবং দেশটির আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের প্রধানকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর এই উদ্যোগ মূলত তুরস্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। এর আগে গত মাসে তুরস্ক ঘোষণা করেছিল যে, তারা নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেছে। গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দেয়ার ঘটনায় তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর আঙ্কারা এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু এরদোগানকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী স্বৈরশাসক’ বলে অভিহিত করেন এবং তার বিরুদ্ধে কুর্দিদের গণহত্যা ও হামাসের সদস্যদের আশ্রয় দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেয়া ভাষণেও তিনি তুরস্ককে ‘ইহুদিবিদ্বেষী মিথ্যার সুপার স্প্রেডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে তুরস্কের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান নেতানিয়াহুর এসব মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রস্তুত করা নথিতে মূলত কুর্দি সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত হামলা এবং হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হবে। আইসিসির রোম সংবিধি অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রয়েছে এই আদালতের। ইসরাইল ও তুরস্ক কেউই রোম সংবিধির পক্ষভুক্ত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মামলা করার চেয়ে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এটি এগিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা বেশি। মূলত এরদোগানের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই মামলাকে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসি নিজেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির এই পরোয়ানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও আইসিসি তাদের এই পদক্ষেপকে বিচারিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এদিকে, জুলাই মাসে ইকোনমিস্ট/ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৪৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।


























