ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল তেলের দাম
- আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সামরিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছায়, যা এক পর্যায়ে ১০৫ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরান সামরিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শান্তি উদ্যোগের কথা জানায়। তেহরান নিশ্চিত করেছে যে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছিল। তবে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন যে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন।
গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে মার্কিন প্রশাসন—এমন আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দামে বড় পতন হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমে যেতে পারে।
এদিকে কেপলারের প্রাথমিক জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল সরবরাহ বাড়ানোয় এই রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আবারও বাড়ায় এই রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলতি মাসে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কমিয়ে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা টার্মিনাল দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

























