পাকিস্তানে জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত ১৪
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় জঙ্গিবাদবিরোধী এক শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি পাঁচজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরের একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে একত্রিত হয়ে এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালে বক্তারা যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জঙ্গিবাদ নির্মূল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্যে এক আত্মঘাতী হামলাকারী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সন্দেহের তীর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) দিকে। ২০০৭ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে সোয়াত উপত্যকা থেকে তালেবানদের বিতাড়িত করা হলেও সম্প্রতি সেখানে আবারও জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রতিবাদেই স্থানীয়রা ধারাবাহিকভাবে টিটিপি-বিরোধী সমাবেশ করে আসছিলেন।
এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। পৃথক বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
এদিকে, আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে নিরাপত্তা উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি দেশটির সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানে ৩,১৪৫টি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপি একাই ২৭টি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে, যাতে সেনাসদস্য ও পুলিশসহ ৮১৯ জন পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।



























