ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তান ও চীন সম্প্রতি একটি যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই চুক্তিকে ভারত তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান হলো, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো বৈধ সীমান্ত নেই এবং এই যৌথ কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি অবৈধ এবং এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তিনি আরও বলেন, যে ভূখণ্ডকে ভারত নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তা নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের কোনো ধরনের চুক্তি করার আইনি এখতিয়ার নেই। ভারত মনে করে, পাকিস্তান ও চীনের এই যৌথ কমিশন মূলত বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকাকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপত্যকাটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে, যা ভারত লাদাখ অঞ্চলের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। নয়াদিল্লি বরাবরই এই হস্তান্তরকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে।

শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব মনে করেন, এটি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়, বরং ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি পুরনো ব্যবস্থাকে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের মূল চুক্তির ৬ নম্বর ধারাটি অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যেখানে কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনার শর্ত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানির মতে, চীন কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন জানিয়ে ভারতকেও একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। এই চুক্তি একই সঙ্গে সিপিইসি অবকাঠামো সুরক্ষার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করবে।

ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ কেবল মানচিত্রগত নয়, বরং ভূ-কৌশলগত। তাই এই ধরনের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাই অগ্রহণযোগ্য এবং এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে ভারত যেহেতু কাশ্মীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অংশে অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যেমন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে, তাই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীন ও পাকিস্তান তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও সংহত করার চেষ্টা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৬:২৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান ও চীন সম্প্রতি একটি যৌথ সীমান্ত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করেছে। দুই দেশের পক্ষ থেকে একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই চুক্তির ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে এই চুক্তিকে ভারত তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট অবস্থান হলো, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো বৈধ সীমান্ত নেই এবং এই যৌথ কমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই চুক্তিটি অবৈধ এবং এর কোনো আইনগত বৈধতা নেই। তিনি আরও বলেন, যে ভূখণ্ডকে ভারত নিজেদের অংশ বলে দাবি করে, তা নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের কোনো ধরনের চুক্তি করার আইনি এখতিয়ার নেই। ভারত মনে করে, পাকিস্তান ও চীনের এই যৌথ কমিশন মূলত বিতর্কিত শাকসগাম উপত্যকাকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপত্যকাটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে, যা ভারত লাদাখ অঞ্চলের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। নয়াদিল্লি বরাবরই এই হস্তান্তরকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে।

শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব মনে করেন, এটি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়, বরং ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি পুরনো ব্যবস্থাকে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৯৬৩ সালের মূল চুক্তির ৬ নম্বর ধারাটি অগ্রাহ্য করা হয়েছে, যেখানে কাশ্মীর বিরোধের সমাধানের পর বিষয়টি পুনরায় আলোচনার শর্ত ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানির মতে, চীন কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন জানিয়ে ভারতকেও একটি বার্তা দিতে চেয়েছে। এই চুক্তি একই সঙ্গে সিপিইসি অবকাঠামো সুরক্ষার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা হিসেবেও কাজ করবে।

ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ কেবল মানচিত্রগত নয়, বরং ভূ-কৌশলগত। তাই এই ধরনের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উদ্যোগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই অবৈধ দখলকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাই অগ্রহণযোগ্য এবং এটি ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে ভারত যেহেতু কাশ্মীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অংশে অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন এনেছে, যেমন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে, তাই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চীন ও পাকিস্তান তাদের কৌশলগত অবস্থান আরও সংহত করার চেষ্টা করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo