যশোরে কিশোরীর মৃত্যু: আত্মগোপনে ইসকনের অভিযুক্তরা, এখনো মেলেনি হদিস
- আপডেট সময় : ০১:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরের চাঁচড়ার ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী দশমহাবিদ্যা মন্দিরে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী শিপ্রা ঘোষের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ইসকন সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ এবং কিশোরী আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার পর থেকে অভিযুক্ত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, ২০১৬ সালে মন্দির সংস্কার ও পূজা-অর্চনায় সহযোগিতার শর্তে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনকে এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মন্দিরের প্রবেশাধিকার, দানবাক্স, পানি-বিদ্যুৎ এবং চত্বরের ব্যবস্থাপনায় ইসকন একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে। এমনকি মন্দিরের চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ দত্ত জানান, ইসকনকে যুক্ত করার সময় স্পষ্ট শর্ত ছিল যে তারা মূল কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করবে না এবং চত্বরের একটি নির্দিষ্ট অংশে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখবে। প্রয়োজনে দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের অন্যত্র জমি কিনে পুনর্বাসনের কথা থাকলেও সেই শর্ত মানা হয়নি। ইতোমধ্যে তিনটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি পরিবার উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া দানবাক্স ও অনুদানের অর্থের ওপরও কমিটির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন, যদিও ইসকন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি ১৭ বছর বয়সী শিপ্রা ঘোষের রহস্যজনক মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। শিপ্রার ভাই পাপন ঘোষ বাদী হয়ে মন্দিরের অধ্যক্ষ অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাসসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় যৌন হয়রানি, অশালীন আচরণ এবং শিপ্রার মাকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এসব লাঞ্ছনার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিপ্রা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।
মামলার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত অপার গোবিন্দ দাসসহ অন্যান্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। বর্তমানে মন্দিরে অভয়নগরের রূপ-সনাতন ধাম থেকে আসা কয়েকজন নতুন সাধুকে দেখা যাচ্ছে, যাদের পরিচয় বা নাগরিকত্ব নিয়ে স্থানীয় হিন্দুদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফলে মন্দির চত্বরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি দায়েরের পর যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল সংশ্লিষ্ট থানায় এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানিয়েছেন, তারা এখনো আদালতের কোনো নির্দেশনা পাননি এবং কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করছে মানবাধিকার সংগঠন ‘রাইটস যশোর’।
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ০১আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ০৬



























