বিরোধী সমর্থকদের গণগ্রেপ্তার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৩:২৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ইলাইন পিয়ারসন এক প্রতিবেদনে এই দমনপীড়নের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ‘বাংলাদেশি পুলিশ রাউন্ড আপ অপজিশন সাপোর্টার্স’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বর্তমান কর্তৃপক্ষের এই দমনমূলক কার্যক্রম নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একটি সভা থেকে প্রায় ২৯০ জন সমর্থককে আটক করে পুলিশ। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদলের সদস্যদের দাবি, ওই সভাটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একটি ‘গোপন’ বৈঠক। আটককৃতদের মধ্যে ২৭ জনকে আদালত হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, জাসদ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অংশ ছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের মুখে সেই সরকারের পতন ঘটে, যে আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক দমনপীড়নের শিকার হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা নিজেরাই বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন, যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
একইভাবে ২৬শে সেপ্টেম্বর বরিশালে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এর দুইদিন পর ঢাকায় একই অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আটককৃতরা দাবি করেছেন, তারা কেবল শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একত্রিত হয়েছিলেন। ইলাইন পিয়ারসন তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার পরিবর্তে তারা নতুন করে দমনপীড়ন চালাচ্ছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য যেসব ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছিল, তাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা সবার জন্য নিশ্চিত থাকা প্রয়োজন। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বর্তমান সরকারের একই ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো বৈধতা দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেন পিয়ারসন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের দমনপীড়ন অতীতে অনেক বড় পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে।




























