জামালপুরে পতিত জমিতে পানিফল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকা পতিত জমিতে পানিফল চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। যেসব জমিতে বছরের বেশির ভাগ সময় পানি জমে থাকার কারণে অন্য কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হতো না, এখন সেখানে পানিফল চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। কম খরচে ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এই ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার মানুষের।
গাছটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় জন্মায় বলে এটি ‘পানিফল’ নামে পরিচিত। তবে জামালপুরের স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘শিঙাড়া’ নামে বেশ পরিচিত, কারণ দেখতে এটি অনেকটা ভাজা শিঙাড়ার মতো। গাঢ় সবুজ ও খয়েরি রঙের এই ফলের খোসা ছাড়ালে ভেতরে পাওয়া যায় দুধের মতো সাদা শাঁস, যা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু, নরম ও ঠান্ডা। এলাকার বাসিন্দারা সকালে এই ফল সেদ্ধ করে নাস্তা হিসেবে খেয়ে থাকেন। এছাড়া পাকা পানিফল সবজি হিসেবেও রান্না করা যায়। রোদে শুকিয়ে ঢেঁকি বা মেশিনে পিষে তৈরি করা আটা দিয়ে বানানো রুটিও বেশ সুস্বাদু খাবার হিসেবে সমাদৃত।
কৃষকরা জানান, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে যখন সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকার সংকট থাকে, তখন এই অসময়ের ফল বিক্রি করে ভালো আয় করা যায়। দেওয়ানগঞ্জের বিভিন্ন জলাশয় ও নিচু জমিতে এখন পানিফলের সবুজ পাতা ভেসে রয়েছে। কৃষকেরা পানিতে নেমে পরিপক্ব ফল সংগ্রহ করে ঝুড়ি ও বস্তায় ভরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। আগে যেসব জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকত, এখন সেখান থেকেই আসছে বাড়তি উপার্জন।
এ বিষয়ে স্থানীয় চাষি জামাল উদ্দিন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আগে এই জমিগুলো এমনিতেই পড়ে থাকত, কোনো কাজে আসত না। এখন পানিফল চাষ করে এখান থেকে ভালো আয় করতে পারছি। সব খরচ বাদ দিয়েও বেশ লাভ থাকে। বাজারে যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তবে এই চাষ করেই সংসার চালানো সম্ভব।’ পানিফল চাষের প্রসার ঘটায় এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। ফল সংগ্রহ, বাছাই ও পরিবহনের কাজে যুক্ত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক দিনমজুর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া জানান, যেসব জমি বছরের দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকে, সেখানে পানিফল চাষের দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তবে চাষিদের দাবি, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। কৃষিবিদদের ধারণা, উৎপাদিত পানিফল প্রক্রিয়াজাত করে গ্লুকোজ তৈরি করা সম্ভব। এছাড়া এটি শুকিয়ে আটা তৈরি করে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরির মাধ্যমে এই ফলকে লাভজনক অর্থকরী ফসলে রূপ দেওয়া যেতে পারে।





























