তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

শ্রমিক সংগঠনের ধারাবাহিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই এই বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হতে পারে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছ থেকে তাদের প্রতিনিধিদের নাম আহ্বান করা হবে। প্রতিনিধিদের নাম পাওয়া সাপেক্ষে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এদিকে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছরে নামিয়ে এনেছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা একই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। আগামী নভেম্বরে সেই ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে।
শ্রমিকনেতাদের দাবি, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মালিকপক্ষের যুক্তি হলো, আইন পাসের পর থেকে সময় গণনা শুরু হওয়া উচিত। শ্রমসচিব জানান, এই জটিলতা নিরসনে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির সভায় আলোচনা হবে। সেখানে সমাধান না হলে বিষয়টি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় উত্থাপন করা হবে অথবা সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই সময় মজুরিকাঠামোতে সাতটি গ্রেডের পরিবর্তে পাঁচটি গ্রেড করা হয়। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানার বাড়তি মজুরি প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যমান মজুরিকাঠামোতে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং নতুন করে মজুরি বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।





























