ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জেনজির লড়াই
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৫আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৫। ভারতে কংগ্রেস জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে বর্তমান ‘জেনজি’র আন্দোলনকে কেবল স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা ভুল হবে। এই তরুণ প্রজন্ম ভারত ও বিশ্ব উভয়ের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ এক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য ভারতের ক্রমাবনতিশীল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার পর বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলেই ভারতের গণতন্ত্র সবচেয়ে বড় আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। এই বিষয়টিকে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে বা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পছন্দ-অপছন্দের গণ্ডিতে আটকে রাখা ঠিক হবে না।
বর্তমান এই রাজনৈতিক মুহূর্তটি স্থায়ী হবে, নাকি মোদি সরকার কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানবে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। যদিও কোনো কোনো কলামিস্ট মনে করেন সরকারের দমন-পীড়ন বাড়বে, তবে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। মোদি সরকারের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের যে নেতিবাচক অধোগতি শুরু হয়েছে, তা তারা কীভাবে সামাল দেবে, তা কল্পনা করা কঠিন। রামমন্দির নির্মাণ ও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি জয়ের পরও জনসমর্থন নিম্নমুখী, যা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পথকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
গণতন্ত্রের তাত্ত্বিকরা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের গণতন্ত্রকে ব্যতিক্রমী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক দশক ভারত ছিল দরিদ্র এবং নামমাত্র শিল্পায়িত, তবু সেখানে গণতন্ত্র টিকে ছিল। ১৯৬৬ সালে ‘সোশ্যাল অরিজিন্স অব ডিক্টেটরশিপ অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ গ্রন্থের রচয়িতা ব্যারিংটন মুর জুনিয়র লিখেছিলেন—‘…রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে ভারত আধুনিক বিশ্বেরই অংশ। ১৯৬৪ সালে নেহরুর মৃত্যুর সময় সেখানে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের বয়স ছিল ১৭ বছর। ব্যবস্থাটি হয়তো নিখুঁত ছিল না, কিন্তু তা কোনোভাবেই নিছক লোকদেখানো বিষয় ছিল না।… এশীয় প্রেক্ষাপট এবং শিল্পবিপ্লবহীন কোনো সমাজে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের অস্তিত্ব কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে পারে।’ ১৯৮৯ সালে রবার্ট ডাল ভারতকে ‘সমসাময়িক এক প্রধান ব্যতিক্রম’ এবং ২০০১ সালে অ্যাডাম প্রজেওর্স্কি একে প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা গণতন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তবে এই আলোচনা মূলত ‘নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্র’ নিয়ে, যেখানে ‘উদারনৈতিক গণতন্ত্র’ হিসেবে ভারতের কার্যকারিতা ততটা সন্তোষজনক নয়।
উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বাক্স্বাধীনতা, সুশীল সমাজের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে নির্বাচনি ও উদারনৈতিক গণতন্ত্রের মধ্যে গভীর সংঘাত শুরু হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর এখন ভোটাধিকারের ওপরও আঘাত আসছে, যার চূড়ান্ত রূপ হলো ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার নাম নিবন্ধনের দায়ভার নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে এবং পর্যাপ্ত নথিপত্র দাবি করছে, যা দরিদ্র নাগরিকদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে।
ভারতের ‘জেনজি’ প্রজন্ম এই দমনমূলক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নির্ভীক চিত্তে লড়াই করছে। তারা কোনো প্রার্থনা করছে না, বরং সাহির লুধিয়ানভির সেই ‘সকাল’ বা পরিবর্তনের প্রত্যাশায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা পাওয়ার বিষয় নয়, বরং ভোটার হিসেবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার নীতির লড়াই।

























