শাহজালাল বিমানবন্দরে সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণসহ মালয়েশীয় নাগরিক আটক
- আপডেট সময় : ১২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়ালালামপুর থেকে আসা এক মালয়েশিয়ান নাগরিকের কাছ থেকে ৪ দশমিক ৫ কেজি (সাড়ে ৪ কেজি) ওজনের স্বর্ণের বার জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উদ্ধারকৃত এই ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধতার স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। আটককৃত ওই যাত্রীর নাম ইয়াং ডন সিউ (৪৩), যিনি একজন মালয়েশীয় নাগরিক।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী ‘এমএইচ ০১৯৬’ ফ্লাইটের এক যাত্রীর বিষয়ে তথ্য ছিল শুল্ক কর্মকর্তাদের কাছে। বিমানটি অবতরণের পর ওই সন্দেহভাজন যাত্রী বিমান থেকে নামলে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
পরবর্তীতে যাত্রী বেল্ট থেকে নিজের ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তাকে থামানো হয়। তল্লাশিকালে তার শার্টের নিচে অভিনব কায়দায় একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে ওই যাত্রীর শরীর থেকে স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়। আটক ইয়াং ডন সিউয়ের পাসপোর্ট নম্বর এ৬১৮২৮০৮২।
তার কাছ থেকে প্রতিটি এক কিলোগ্রাম ওজনের ৪টি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের ৫টিসহ মোট ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন সাড়ে ৪ কিলোগ্রাম। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী কোনো প্রকার ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’ ও ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল অ্যাক্ট ১৯৪৭’ অনুযায়ী এই স্বর্ণ বহনের সপক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা দলিল দেখাতে পারেননি।
আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে ‘কাস্টমস আইন ২০২৩’ এর ধারা ১৯১ অনুযায়ী স্বর্ণের বারগুলো সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত মালয়েশীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঢাকা কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় তারা সর্বদা তৎপর রয়েছে।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন সাড়ে ৪ কিলোগ্রাম। ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করলে বিমান হতে নামার পরে সন্দেহভাজন উক্ত যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। যাত্রীগণ বেল্ট থেকে ব্যাগেজ সংগ্রহ করার পর গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রমকালে উক্ত যাত্রীকে আলাদা করে গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশিকালে তার শরীরে বিশেষভাবে বহনকৃত উল্লিখিত পরিমাণ স্বর্ণবারের অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং আনুমানিক রাত ১.৪৫ মিনিটে উক্ত যাত্রীর শরীর থেকে স্বর্ণবারগুলো উদ্ধার করা হয়।


























