দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক আকস্মিক ও অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। এই বৈঠকে যোগ দিতে গত সোমবার রাতে বিমানযোগে ঢাকা ছাড়েন তিনি। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লিতে এই দুই নেতার মধ্যে মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় মোদির সঙ্গে এটি ত্রিবেদীর দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক।
কূটনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে ঢাকার বর্তমান মনোভাবের বার্তা দিতেই ত্রিবেদীর এই আকস্মিক দিল্লি সফর। দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকার অবস্থান তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। তবে এই সফর ও বৈঠক নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছরের ইতিহাসে দীনেশ ত্রিবেদীই প্রথম ভারতীয় হাইকমিশনার, যাকে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তা সামাল দিতেই গত জুনে তাকে কেবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঢাকায় পাঠায় বিজেপি সরকার। ক্যারিয়ার কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে সাধারণত সরাসরি যোগাযোগ দেখা যায় না, তবে মোদির সঙ্গে ত্রিবেদীর সরাসরি যোগাযোগ ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শক্তিশালী অংশের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই ত্রিবেদীর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ইতিপূর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের আলোচনা অনেক দূর এগোলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে দিল্লি, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে এই চুক্তির নবায়নও বর্তমানে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।




























