ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্কুশ-নুসরাতকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জনে মুখ খুললেন অভিনেতা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত লক্ষ করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে চান মারুফ ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির সুপারিশ কমিটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংসের কথা বলে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইডিআরএ’র বিশেষ উদ্যোগ বিকৃত ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ জাহ্নবী, নিলেন কড়া অবস্থান গণঅধিকারের সদস্য জসিমের পদ স্থগিত, কারণ দর্শানোর নোটিশ শ্রেয়াস আইয়ারের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত

সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ, মানা হচ্ছে না নিষেধাজ্ঞা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রায় শতবর্ষী হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ও চিঠি দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উত্তর হারবাং ফরেস্ট অফিসের পাশ দিয়ে বনের ভেতরে চলে যাওয়া সরু পথটিই এখন পাকা সড়কে রূপ নিচ্ছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটারই গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের অংশ। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর করমুহুরীপাড়া ও সাবানঘাটা সেতুর পর প্রায় ৬০০ ফুট এলাকায় ৫ থেকে ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে সড়ক চওড়া করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া এই কাটা অংশে বেশ কিছু গাছও কাটা পড়েছে।

বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই এবং সব সংস্থারই এই আইন মেনে চলা উচিত। বনের ভেতর সড়ক হলে জবরদখলসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, পাকা সড়ক হলে বনের ভেতর জবরদখল ও গাছ চুরি বাড়বে, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকিতে পড়বে এবং হাতির চলাচলে বাধা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বন বিভাগের নজরে আসে পাহাড় কাটার বিষয়টি। এর পাঁচ দিন পর চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবীর হাসান কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে এলজিইডিকে চিঠি দেন। তবে এরপরও পাহাড় কাটা সচল রাখা হয়। এই সড়কটি এলজিইডির ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ অংশ, যার মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় ভুল হতে পারে। তবে তারা ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না এবং সংরক্ষিত বনের অংশে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বন বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শুধু হারবাং নয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আরও তিনটি সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন, যা খুটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া হাতি করিডরের অংশ, সেখানে ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বন বিভাগ অনাপত্তি দেয়নি। সাতকানিয়ার বৈতরণি সংরক্ষিত বনের ভেতরেও দুটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার একটির পুরোটাই এবং অন্যটির একাংশ বনের মধ্যে পড়েছে। এছাড়া মহেশখালীর শাপলাপুরে জাইকার ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়নে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি, যার ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার বনের ভেতর অবস্থিত। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট এই কাজের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেখানে কাজ চলার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, বনের ভেতর দিয়ে সড়ক হলে বন খণ্ডিত হয়ে পড়বে। এতে অবৈধ প্রবেশ, জবরদখল ও গাছ কাটা বাড়বে, যা জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

একটি ৫৭০ মিটার দীর্ঘ বড়ুয়াপাড়া সড়ক, যার পুরোটাই সংরক্ষিত বনের মধ্যে বলে বন বিভাগের দাবি।

আর সুয়ালক সেতু থেকে সিদ্দিক খামার পর্যন্ত ৬০০ মিটার সড়কের প্রায় ১৭০ মিটার পড়েছে সংরক্ষিত বনে।জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলে বন খণ্ডিত হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ, মানা হচ্ছে না নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রায় শতবর্ষী হারবাং সংরক্ষিত বনের ভেতর পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা ও চিঠি দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রায় ২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উত্তর হারবাং ফরেস্ট অফিসের পাশ দিয়ে বনের ভেতরে চলে যাওয়া সরু পথটিই এখন পাকা সড়কে রূপ নিচ্ছে। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের প্রায় ৪ কিলোমিটারই গেজেটভুক্ত সংরক্ষিত বনের অংশ। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তর করমুহুরীপাড়া ও সাবানঘাটা সেতুর পর প্রায় ৬০০ ফুট এলাকায় ৫ থেকে ৯ ফুট উঁচু পাহাড় কেটে সড়ক চওড়া করা হয়েছে। ১০ থেকে ১২ ফুট চওড়া এই কাটা অংশে বেশ কিছু গাছও কাটা পড়েছে।

বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বনের ভেতর সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই এবং সব সংস্থারই এই আইন মেনে চলা উচিত। বনের ভেতর সড়ক হলে জবরদখলসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, পাকা সড়ক হলে বনের ভেতর জবরদখল ও গাছ চুরি বাড়বে, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ঝুঁকিতে পড়বে এবং হাতির চলাচলে বাধা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বন বিভাগের নজরে আসে পাহাড় কাটার বিষয়টি। এর পাঁচ দিন পর চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবীর হাসান কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে এলজিইডিকে চিঠি দেন। তবে এরপরও পাহাড় কাটা সচল রাখা হয়। এই সড়কটি এলজিইডির ‘দক্ষিণ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্পের’ অংশ, যার মোট ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রকল্প পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সময় ভুল হতে পারে। তবে তারা ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চান না এবং সংরক্ষিত বনের অংশে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বন বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

শুধু হারবাং নয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের আরও তিনটি সংরক্ষিত বনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে আপত্তি উঠেছে। চকরিয়ার মধুশিয়া গর্জনবন, যা খুটাখালী-মেধাকচ্ছপিয়া হাতি করিডরের অংশ, সেখানে ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বন বিভাগ অনাপত্তি দেয়নি। সাতকানিয়ার বৈতরণি সংরক্ষিত বনের ভেতরেও দুটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার একটির পুরোটাই এবং অন্যটির একাংশ বনের মধ্যে পড়েছে। এছাড়া মহেশখালীর শাপলাপুরে জাইকার ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়নে সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করছে এলজিইডি, যার ৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার বনের ভেতর অবস্থিত। গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট এই কাজের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেখানে কাজ চলার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন বলেন, বনের ভেতর দিয়ে সড়ক হলে বন খণ্ডিত হয়ে পড়বে। এতে অবৈধ প্রবেশ, জবরদখল ও গাছ কাটা বাড়বে, যা জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে।

একটি ৫৭০ মিটার দীর্ঘ বড়ুয়াপাড়া সড়ক, যার পুরোটাই সংরক্ষিত বনের মধ্যে বলে বন বিভাগের দাবি।

আর সুয়ালক সেতু থেকে সিদ্দিক খামার পর্যন্ত ৬০০ মিটার সড়কের প্রায় ১৭০ মিটার পড়েছে সংরক্ষিত বনে।জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ হলে বন খণ্ডিত হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo