লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংসের কথা বলে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৫:৪৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো শহরকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমসহ দুই শহরের মেয়ররা ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ‘বেপরোয়া’, ‘বিপজ্জনক’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
সোমবার রাতে নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় জয়ের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াটা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য একটি ‘ছোট মূল্য’। এরপর তিনি বলেন, “তারা একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসকে ধ্বংস করতে দিন। সান দিয়েগোকেও ধ্বংস করতে দিন।” এ সময় সমাবেশে উপস্থিত তার সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে。
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউজম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা পাঠিয়ে রাজ্যটি দখলের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। আর এখন তিনি বিদেশি শত্রুদের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংস করার আহ্বান জানাচ্ছেন। ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত ও বিপজ্জনক’ অভিহিত করে নিউজম বলেন, দুই শহরের এক কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিকের ওপর হামলার পক্ষে কথা বলছেন ট্রাম্প, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে নিরাপদ রাখাই প্রেসিডেন্টের মূল দায়িত্ব, তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বা হামলাকে উৎসাহিত করা নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটির নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
can_be_expendable_or_collateral_damage_in_a_war
একইভাবে সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া ট্রাম্পের এই বেপরোয়া যুদ্ধংদেহী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সান দিয়েগোর বাসিন্দারা কোনোভাবেই বিসর্জনযোগ্য নন এবং তারা কোনো যুদ্ধের ‘সহযোগী ক্ষতি’ (কোল্যাটারাল ড্যামেজ) হতে পারেন না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম শহর সান দিয়েগোতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রায় দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ ও এলোমেলো এই বক্তব্য নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত এই দুটি শহরকে নিয়ে ট্রাম্প কৌতুক করেছেন নাকি ইরানের সক্ষমতা নিয়ে কোনো গোপন তথ্য অসাবধানতাবশত ফাঁস করেছেন, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কিছু রক্ষণশীল কর্মী দাবি করেছেন, ট্রাম্প ‘ছোট মূল্য’ বলতে শুধু জ্বালানির উচ্চমূল্যের কথা বুঝিয়েছেন, ইরানের ধ্বংসাত্মক সক্ষমতার কথা নয়।
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ইরানের নেই। যদিও ট্রাম্প বরাবরই ইরানকে বড় হুমকি হিসেবে দাবি করে আসছেন এবং তার শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও বলেছিলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যা শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারবে।
নেব্রাস্কায় ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। সেখানে সিনেট নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ায় রিপাবলিকানদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প নিজেকে ‘দারুণ অবস্থায়’ দাবি করে সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান যেন ব্যালটে তার নিজের নামই রয়েছে। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন যখন চমক দেখানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সেখানে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করল। ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর পদপ্রার্থী জেভিয়ার বেসেরাও ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোর ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জীবন কোনো কৌতুকের বিষয় হতে পারে না।




























