গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার
- আপডেট সময় : ১১:৫৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গাজায় যুদ্ধ শুরুর তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে প্রহর গুনছেন হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার। ইসরায়েলি স্থল অভিযান, ত্রাণের সন্ধানে বের হওয়া, বাড়িঘরের খোঁজ নেওয়া কিংবা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হওয়া এসব মানুষের কোনো হদিস মেলেনি। প্রিয়জনেরা বেঁচে আছেন, নাকি আটক হয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন, নাকি অজ্ঞাত মরদেহের তালিকায় রয়েছেন—এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে দিন কাটছে তাঁদের পরিবারের।
স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং জোরপূর্বক গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড ফরসিবলি ডিসঅ্যাপিয়ার্ডের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করায় এবং ফেরত দেওয়া প্রায় ৬২০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় এই অপেক্ষার যন্ত্রণা আরও তীব্র হয়েছে।
সাংবাদিক নিদাল আল-ওয়াহিদির বাবা-মা তিন বছর ধরে মধ্য গাজা শহরের আল-নাফাক সড়কের একটি ছোট তাঁবুতে বসে ছেলের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে এরেজ ক্রসিং এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় নিদাল নিখোঁজ হন। তার বাবা ৬২ বছর বয়সী সুহাইল আল-ওয়াহিদি জানান, রেড ক্রসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি তাঁরা। তিনি বলেন, ‘নিদাল শুধু আমাদের ছেলে ছিল না, সে ছিল আমাদের বন্ধু ও পরিবারের অবলম্বন। এখন তাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে।’
একইভাবে ৫৯ বছর বয়সী সাঈদ হাজ্জাজ এবং তাঁর ১৭ বছর বয়সী ছেলে কাসেম হাজ্জাজ ২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের সদস্য নিসরিন হাজ্জাজ জানান, উত্তর গাজা শহরের শেখ রাদওয়ানে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় তাঁদের আটক করা হয়। পরিবারের নারীদের দক্ষিণ গাজায় পাঠিয়ে দেওয়া হলেও পুরুষদের আটক করা হয়। নিসরিন বলেন, ‘আমরা শেষবার বাবা ও ভাইকে নগ্ন, হাতকড়া পরানো ও নির্যাতিত অবস্থায় দেখেছিলাম। এরপর থেকে তাদের কোনো খবর নেই।’ অনিশ্চয়তার কারণে পরিবারটি এখনো তাদের মৃত্যু মেনে নিতে রাজি নয়, এমনকি বৃত্তির জন্য মৃত্যুসনদ দিতেও তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আলা আবু শাবান নামের আরেক ব্যক্তি তাঁর ভাই মোহাম্মদের অপেক্ষায় আছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা শুরুর পর মোহাম্মদ দেইর আল-বালাহ এলাকায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো নিশ্চিত খবর মেলেনি। আলা জানান, মোহাম্মদের বড় ছেলে ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ না পাওয়ায় এই পরিবারগুলো শোক করবেন নাকি ফেরার আশা করবেন, সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারছেন না।



























