অস্ট্রেলিয়ায় মিলছে ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বস্তি
- আপডেট সময় : ০১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সহজলভ্য হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কার্যকর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’। বিদেশ ভ্রমণকারীদের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এখন থেকে চিকিৎসকের (জিপি) ব্যবস্থাপত্র নিয়ে সরাসরি এ টিকা নেওয়া যাবে। এই খবরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে, কারণ প্রতিবছর ছুটির মৌসুমে সপরিবার বাংলাদেশে যাওয়ার সময় ডেঙ্গু নিয়ে তাঁদের মধ্যে চরম আতঙ্ক কাজ করত।
সিডনির লাকেম্বার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইরফান খান জানান, সামনে দীর্ঘ ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতেন। অস্ট্রেলিয়ায় এই টিকা পাওয়ার খবরে তাঁর বড় দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আগেই বাচ্চাদের টিকা দিতে চান তিনি। আরেক প্রবাসী সৈয়দ আশরাফ আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু এখন প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় বসে দেশে পরিচিতদের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি আতঙ্কিত হতেন। তাই ভ্রমণের আগে সুরক্ষাকবচ হিসেবে এই টিকা পাওয়া তাঁদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার টিকাদান–সংক্রান্ত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চার বছর বা তার বেশি বয়সীরা কিউডেঙ্গা টিকা নিতে পারবেন। বিশেষ করে যাঁরা আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই টিকা নেওয়ার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ০.৫ মিলিলিটারের এই টিকাটি দুই ডোজে দেওয়া হয়, যেখানে প্রথম ডোজ নেওয়ার অন্তত ১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়। রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্সের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. পিটার মার্কি জানান, ডেঙ্গুর চারটি ভিন্ন ধরন রয়েছে। একবার এক ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার অন্য ধরনের সংক্রমণ ঘটলে তা মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান বা বারবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের প্রায় সবাই বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে ফিরেছেন। দেশটিতে ২০২৪ সালে রেকর্ড ২ হাজার ৩৮১ জন এবং ২০২৫ সালে ১ হাজার ৮৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা বাংলাদেশ ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের মতো ডেঙ্গুপ্রবণ দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অনুমোদিত ডেঙ্গুর প্রথম টিকা ‘ডেংভ্যাক্সিয়া’ কেবল পূর্বে আক্রান্তদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ‘কিউডেঙ্গা’র বিশেষ সুবিধা হলো, অতীতে ডেঙ্গু না হওয়া ব্যক্তিরাও এটি নিতে পারবেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদিত এই টিকা এখন সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য।





























