ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ফিরছে ২০০ নম্বরের পুরোনো নিয়ম গোল ও অ্যাসিস্টে স্মরণীয় বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন মেসি গোলশূন্য প্রথমার্ধে মেসির বিদায়ী ম্যাচের রোমাঞ্চ অঙ্কুশ-নুসরাতকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জনে মুখ খুললেন অভিনেতা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত লক্ষ করে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে চান মারুফ ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা তৈরির সুপারিশ কমিটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ধ্বংসের কথা বলে তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইডিআরএ’র বিশেষ উদ্যোগ

ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রমকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্দরের পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের জটিল কার্যক্রম বিবেচনায় একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাথে এপিআই সংযোগ স্থাপনের ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা পাওনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়ের জন্য অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এছাড়া জুলাই মাসে টিওএস-এর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের ফলে আমদানিকারকরা এখন কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন। বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানজট কমাতে টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালুর পাশাপাশি ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট (ইআইআর) সমন্বয়ের কাজ চলছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ড রয়েছে। জাহাজ আসা থেকে শুরু করে পণ্য খালাস ও চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে বন্দরের ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনাই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রমকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। এই আধুনিকায়নের মাধ্যমে বন্দরের পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের জটিল কার্যক্রম বিবেচনায় একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাথে এপিআই সংযোগ স্থাপনের ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।

নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা পাওনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়ের জন্য অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হবে। এছাড়া জুলাই মাসে টিওএস-এর সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের ফলে আমদানিকারকরা এখন কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন। বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানজট কমাতে টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালুর পাশাপাশি ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট (ইআইআর) সমন্বয়ের কাজ চলছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম আরও জানান, চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ড রয়েছে। জাহাজ আসা থেকে শুরু করে পণ্য খালাস ও চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এনে বন্দরের ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনাই কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh