ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে মোবাইল শোরুমে মারামারি: ছাত্রদল নেতাসহ থানায় উভয় পক্ষ কৃষ্ণ সাগরে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে ২৩ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার ফ্রান্সে মুসলমানরা দেশ দখলের চেষ্টা করছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে ২৫০ মিটার ফাটল, ঝুঁকিতে যান চলাচল সাটুরিয়ায় ৮১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত স্থানীয় প্রশাসন বেতাগীতে ফসল রক্ষায় দুই কিমি জরাজীর্ণ সড়ক মেরামতের দাবি দুর্গাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ তালুকদার সাময়িক অব্যাহতিপ্রাপ্ত ‘বিদায় আনাস’, ধারাবাহিক শেষে আবেগঘন পোস্ট অভিনেতা ফারহান সাঈদের শরীয়তপুরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বিএনপি নেতা মতিউর রহমান বহিষ্কার ইউরোপের রঙিন স্বপ্ন, দালালের ফাঁদে নিঃস্ব বাংলাদেশিরা

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগ আটকে গেল মিশন আচার্যের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন মিশন আচার্য (৩০)। মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন তিনি।

মিশন আচার্য জানান, তাঁর সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জনই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, আর মিশন আচার্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরির আবেদনে তিনি ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিলে তাঁকে জানানো হয়, স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মিশন আচার্যের পারিবারিক ইতিহাস বেশ কষ্টের। তাঁর বাবা নন্দ আচার্য বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকার শহিদুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে এই ঠিকানাই রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর পুলিশি যাচাইয়েও এই ঠিকানার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর নানা বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে, যেখানে ২০২২ সালে তাঁর মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস তাঁকে দুই শতক জমি দিয়েছেন। তবে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের নজরেও আনা হয়েছে, তিনিও বিষয়টিকে একটি জটিলতা হিসেবে দেখছেন এবং অধিদপ্তর থেকে সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে বরিশালের আসপিয়া ইসলামের ক্ষেত্রেও স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পুলিশে চাকরি আটকে গিয়েছিল, যা পরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল।

বড় ভাই সংসারের চাপে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি।তবে মিশন আচার্য এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে মায়ের কষ্ট হলেও তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় শিক্ষক নিয়োগ আটকে গেল মিশন আচার্যের

আপডেট সময় : ০১:০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন মিশন আচার্য (৩০)। মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন তিনি।

মিশন আচার্য জানান, তাঁর সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জনই নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, আর মিশন আচার্যকে বাদ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় চাকরির আবেদনে তিনি ভাড়া বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিলে তাঁকে জানানো হয়, স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মিশন আচার্যের পারিবারিক ইতিহাস বেশ কষ্টের। তাঁর বাবা নন্দ আচার্য বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকার শহিদুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বেড়ে উঠেছেন এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে এই ঠিকানাই রয়েছে। চাকরি পাওয়ার পর পুলিশি যাচাইয়েও এই ঠিকানার সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর নানা বাড়ি সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে, যেখানে ২০২২ সালে তাঁর মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস তাঁকে দুই শতক জমি দিয়েছেন। তবে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের নজরেও আনা হয়েছে, তিনিও বিষয়টিকে একটি জটিলতা হিসেবে দেখছেন এবং অধিদপ্তর থেকে সমাধানের প্রত্যাশা করছেন। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে বরিশালের আসপিয়া ইসলামের ক্ষেত্রেও স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতায় পুলিশে চাকরি আটকে গিয়েছিল, যা পরে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল।

বড় ভাই সংসারের চাপে বেশি পড়ালেখা করতে পারেননি।তবে মিশন আচার্য এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে মায়ের কষ্ট হলেও তাঁকে পড়ালেখা করিয়েছেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪ দশমিক ৮৩ পেয়ে পাস করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo