সাটুরিয়ায় ৮১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় প্রস্তুত স্থানীয় প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় শুরু হয়েছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। বাঁশ, খড়, সুতলি ও কাদামাটির কাঠামো শেষে এখন রং-তুলির নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিজনদের প্রতিমূর্তি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদ্যোৎ কুমার ঘোষ অ্যাপোলো জানান, এবার সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ৮১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বালিয়াটি ইউনিয়নে ১৯টি, ধানকোড়ায় ১৪টি, সাটুরিয়ায় ১৩টি, দরগ্রামে ১২টি, তিল্লিতে ৯টি, বড়াইদে ৭টি, দিঘুলিয়ায় ৩টি, হরগজে ২টি এবং ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন চলছে।
উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মাধ্যমে। এরপর ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। শাস্ত্র মতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়।
প্রতিমা কারিগর বাসুদেব পাল জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ দুর্গাপ্রতিমা সেটের কাজ শেষ করতে দুই মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হয়। এবার তিনি সাতটি মণ্ডপের কাজ নিয়েছেন, যার মধ্যে চারটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাজন পালসহ অন্যান্য কারিগরদের আক্ষেপ, কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পূজা কমিটির বাজেট ও মজুরি বৃদ্ধি পায়নি। এদিকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির পাশে অবস্থিত ‘চিন্ময়ী সংঘ’ মন্দিরের দর্শনার্থী গোলক ঘোষ প্রতিমার কারুকাজে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, প্রতিটি মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৬০০ কেজি করে সরকারি চালের বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা সমন্বয় করতে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে।
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এছাড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রফিয়া খাতুন জানিয়েছেন, প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদারে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।


























