গর-ত্রিবেদীর বৈঠক প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান

- আপডেট সময় : ১২:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় তিন দিনের সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুরে সিলেটের স্থানীয় দৈনিক জালালাবাদের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগদানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, সার্জিও গর ও দীনেশ ত্রিবেদী ভারতে বসে কথা বলতেই পারেন। সার্জিও গর যেহেতু ভারতের রাষ্ট্রদূত, তাই এখানে এসে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তার কথা বলাটা যদি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়। তবে এর বাইরে দুই দেশের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে তা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গেই হওয়া উচিত এবং বিরোধী দলের সঙ্গে হওয়া কাম্য। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে এ ধরনের বৈঠক জামায়াত প্রত্যাশা করে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উপসচিব হিসেবে মো. সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সামসুল আলম পাঁচ-সাত বছর আগে অবসর নেওয়া একজন দলীয় ব্যক্তি। এমন কাউকে নির্বাচন কমিশনে পদায়ন করায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে জাতির মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, সরকার যদি ফের কোনো পাঁয়তারা চালায়, তবে জাতি তা মানবে না।
তারেক রহমানের প্রতি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তাকে দলীয় ও সরকারি প্রধান হিসেবে দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। তিনি বলেন, স্বয়ং স্পিকার চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে যে সতর্কতা দিয়েছেন, তা থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপির গণভোটের অবস্থান বদল নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।
এর আগে দৈনিক জালালাবাদের সুধী সম্মিলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি মর্যাদাবান জাতির প্রধান পরিচয় তাদের পাসপোর্টের মানের ওপর নির্ভর করে, যা বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল। অনুষ্ঠানে দৈনিকটির সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূরের সভাপতিত্বে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


























