মাদরাসাকে অবহেলার ইতিহাস শুরু হয়েছিল মুজিব আমল থেকেই: মাহমুদুর রহমান

- আপডেট সময় : ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা এবং আলেম সমাজকে অবমূল্যায়ন করার ধারাবাহিকতা শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকেই শুরু হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে যখন ইসলামের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়, তখন থেকেই এ দেশের আলেম সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষাকে অবহেলা করার ইতিহাস তৈরি হয়।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধানests অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অগ্নিঝরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসা: ছাত্র-শিক্ষকদের অবদান ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকার তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা ছাত্র সংসদ।
মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের সংগ্রাম। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীরূপী জালিমদের বিরুদ্ধে মজলুম হিসেবে লড়াই করেছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার পর এই লড়াইকে ইসলামের বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে রূপান্তর করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে তখন থেকেই আলেমদের নিগৃহীত করার একটি সংস্কৃতি চালু হয়। ১৯৭২ সালের পরিস্থিতি স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় আলেমদের পালিয়ে বেড়াতে হতো এবং আলেম দেখলেই তাঁদের ‘রাজাকার’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে অপমান করা হতো। এমনকি বিচার ছাড়াই অনেককে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
সমাজে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অবদানকে স্বীকার করার ক্ষেত্রে এক ধরনের কুণ্ঠাবোধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আমার দেশ সম্পাদক। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে মাদরাসার ছাত্ররা যে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, গণমাধ্যমে তাদের নাম সেভাবে উঠে আসেনি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা যেভাবে ফলাও করে প্রচার করা হয়, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। অথচ সব শহীদের মর্যাদা ও সম্মান সমান হওয়া উচিত। স্বাধীনতার পর থেকেই মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি এই বৈষম্য চলে আসছে।
আলেমদের ছোট করে দেখার এই মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যার পর দেশজুড়ে যে তীব্র প্রতিবাদ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কারণ সেখানে মূলত গ্রাম থেকে আসা দরিদ্র পরিবারের মাদরাসার ছাত্রদের হত্যা করা হয়েছিল, যা সমাজের একটি অংশের বিবেককে নাড়া দেয়নি। তিনি মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রাপ্য সম্মান কেউ এমনিতেই দেবে না, তা আদায় করে নিতে হবে। আর এজন্য মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের শেষ দিনগুলোতে তা’মীরুল মিল্লাতসহ বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্রদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, টঙ্গী, উত্তরা এবং বিশেষ করে যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসার ছেলেরা যে লড়াই করেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এই সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে তাঁর পত্রিকা কাজ করে যাচ্ছে এবং যতদিন ‘আমার দেশ’ চালু থাকবে, ততদিন জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে তারা ঊর্ধ্বে তুলে রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকেরা যদি জ্ঞান ও নৈতিকতার মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে পারেন, তবে রাষ্ট্রের নেতৃত্বও তাঁদের হাতে চলে আসবে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পাশাপাশি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা。
মাদরাসা ছাত্র সংসদের ভিপি তোফায়েল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামি স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামা, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকির, শায়খুল হাদিস আবু তাহের জিহাদি, তানযিমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল এবং মুফাসসিরে কোরআন আবুল কাশেম রাযি।
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৫৯আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ২১: ০২


























