ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মীর ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ কেয়ারটেকার

- আপডেট সময় : ০৯:০৫:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করা হয়। তিনটি ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহগুলো পাওয়া গেছে।
নিহত রাকিব রায়হান ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে এবং তাঁর মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাকিব বিবাহিত হলেও কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তিনি প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে আসেন এবং রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়। এরপর ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
রাকিব একই এলাকায় আলাদা বাড়িতে থাকতেন, যা দেখাশোনার জন্য একজন কেয়ারটেকার নিয়োজিত ছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি কর্মস্থলে ফিরে গেছেন, কিন্তু ২৬ জুলাই কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় এবং মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁরা নিশ্চিত হন যে তিনি নিখোঁজ। এরপর ২৭ জুলাই রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি করার পরদিন, ২৮ জুলাই থেকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে। রোববার সকাল থেকে এলাকায় তল্লাশি চালানোর সময় বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরের ওই পুকুরে সন্দেহজনক ব্যাগগুলো পাওয়া যায়। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ ১৫ টুকরা করে তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়। হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত চলছে।



























