ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয় পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’ ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস ও অফিস ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ক্ষমতার দম্ভ ও দলীয় আনুগত্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান গ্রেপ্তার

দুই বছর আগের ধর্ষণ নিয়ে উত্তপ্ত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ আইভি লিগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রসংগঠনের কার্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মাদক সেবন করিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ ধরে দুই বছর পর নতুন করে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, যিনি আইনি সুরক্ষার স্বার্থে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাবেশে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিষাক্ত সংস্কৃতি ও প্রশাসনের ধীরগতির তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘কালো মেঘের ছায়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী সোফিয়া রাইলি সিম প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানটি কি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের সুনাম রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সব অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ‘টাইটেল নাইন’ আইনের আওতায় একটি বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হয়েছিল এবং প্যানেলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে শাস্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ‘জাস্টিস ফর সারভাইভারস’ শিরোনামে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ডিগ্রি বাতিল ও ক্যাম্পাস পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের দাবি তুলেছেন। শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, প্রায় ১ হাজার ৩০০ সাবেক শিক্ষার্থীও এক খোলাচিঠিতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ধর্ষণ মামলার তদন্তভার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছ থেকে সরিয়ে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের ওপর ন্যস্ত করেছেন। ফৌজদারি মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই বলে শুরুতে ভ্যান হিউটেনের কার্যালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, নতুন দেওয়ানি মামলার প্রেক্ষাপটে তা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই বছর আগের ধর্ষণ নিয়ে উত্তপ্ত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৮:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ আইভি লিগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রসংগঠনের কার্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মাদক সেবন করিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ ধরে দুই বছর পর নতুন করে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, যিনি আইনি সুরক্ষার স্বার্থে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাবেশে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিষাক্ত সংস্কৃতি ও প্রশাসনের ধীরগতির তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘কালো মেঘের ছায়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী সোফিয়া রাইলি সিম প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানটি কি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের সুনাম রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী?

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সব অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ‘টাইটেল নাইন’ আইনের আওতায় একটি বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হয়েছিল এবং প্যানেলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে শাস্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ‘জাস্টিস ফর সারভাইভারস’ শিরোনামে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ডিগ্রি বাতিল ও ক্যাম্পাস পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের দাবি তুলেছেন। শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, প্রায় ১ হাজার ৩০০ সাবেক শিক্ষার্থীও এক খোলাচিঠিতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ধর্ষণ মামলার তদন্তভার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছ থেকে সরিয়ে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের ওপর ন্যস্ত করেছেন। ফৌজদারি মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই বলে শুরুতে ভ্যান হিউটেনের কার্যালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, নতুন দেওয়ানি মামলার প্রেক্ষাপটে তা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo