
যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ আইভি লিগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রসংগঠনের কার্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মাদক সেবন করিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ ধরে দুই বছর পর নতুন করে ক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ছাত্র সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গাফিলতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, যিনি আইনি সুরক্ষার স্বার্থে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচিত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে এবং অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সমাবেশে আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিষাক্ত সংস্কৃতি ও প্রশাসনের ধীরগতির তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘কালো মেঘের ছায়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী সোফিয়া রাইলি সিম প্রশ্ন তোলেন, প্রতিষ্ঠানটি কি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজেদের সুনাম রক্ষার দিকে বেশি মনোযোগী?
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য সব অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ঘটনার পরপরই ‘টাইটেল নাইন’ আইনের আওতায় একটি বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হয়েছিল এবং প্যানেলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে শাস্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী ৫ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ‘জাস্টিস ফর সারভাইভারস’ শিরোনামে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার, ডিগ্রি বাতিল ও ক্যাম্পাস পুলিশের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের দাবি তুলেছেন। শুধু বর্তমান শিক্ষার্থীরাই নন, প্রায় ১ হাজার ৩০০ সাবেক শিক্ষার্থীও এক খোলাচিঠিতে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এই ধর্ষণ মামলার তদন্তভার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কাছ থেকে সরিয়ে অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমসের ওপর ন্যস্ত করেছেন। ফৌজদারি মামলা করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই বলে শুরুতে ভ্যান হিউটেনের কার্যালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, নতুন দেওয়ানি মামলার প্রেক্ষাপটে তা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২