আসামের ধুবড়িতে আদানি পাওয়ার প্রকল্পের জন্য হাজারো বাঙালি মুসলিম উচ্ছেদ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

আসামের ধুবড়ি জেলায় আদানি পাওয়ারের ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য চাঁপার রেভিনিউ সার্কেলের চারুয়াবখরা, চিরাকুটা-১ ও ২ এবং সন্তোষপুর এলাকায় প্রায় ১,১৫৭ একর সরকারি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জমিগুলো প্রথমে রাজ্য সরকারের অধীনস্থ ‘আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড’-এর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে তা আদানি পাওয়ার লিমিটেডের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হওয়া অনেকেরই পূর্বপুরুষরা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ওই এলাকায় বসতি গড়েছিলেন।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, খাসজমির পাশাপাশি প্রায় ১,৭০০ বিঘা এমন জমিও প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যার বৈধ মালিকানা বা পট্টার নথিপত্র তাদের কাছে ছিল। ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদ শেখ জানান, নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও পট্টাধারী জমির মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। প্রশাসন পুনর্বাসনের জন্য বাইজার আলগা এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি এবং স্থানান্তরের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে এলাকাটি নিচু ও বন্যাপ্রবণ হওয়ায় বাসিন্দারা তা গ্রহণ করতে রাজি হননি।
প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েও গুরুতর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন কমিটি গত ১৪ জুলাই প্রকল্পটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করে। উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের অভিযোগ, পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদনে প্রকল্প এলাকায় কোনো জনবসতি নেই এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের দাবি, বাস্তবে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বসবাস ছিল।
আসামের ভূমি উপদেষ্টাদের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ জেলা প্রশাসন গবাদি পশুর চারণভূমির জন্য সংরক্ষিত একটি সরকারি জমি বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব জমা দেয়। এই প্রস্তাবের পরেই উচ্ছেদের নোটিস জারি করে বসতবাড়িগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকল্পটিকে আসামের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আদানি গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, নির্মাণপর্বে প্রায় ২০ হাজার এবং প্রকল্প চালু হলে আরও প্রায় পাঁচ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে উচ্ছেদ, ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং পরিবেশগত অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পাশাপাশি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০: ২৯আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১: ০০
তিনি জানান, যে ৩,৫০০ বিঘা খাসজমি জোর করে দখল করা হয়েছে, তা ছাড়াও প্রায় ১,৭০০ বিঘা এমন জমিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে যার বৈধ মালিকানা নথি বা পট্টা সাধারণ মানুষের কাছে ছিল। সব ধরনের কাগজপত্র জমা নেওয়া সত্ত্বেও পট্টাধারী জমির মালিকদের অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।





























